হামলাকারীরা কেউ আমার সমর্থক নন: আ.লীগ সম্পাদক

“বাঁধনসহ যারা শিক্ষক মিন্টুর ওপর হামলা করেছে তারা আমার রাজনৈতিক কর্মী নন, আমার সমর্থকও নন। তাদের সাথে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। কুড়িগ্রামে হাতকাটা বাহিনী গড়ে ওঠা ও তাদের বেপরোয়া হওয়ার পেছনে অতীতের রাজনৈতিক নেতৃত্বই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ।

শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ হল রুমে অয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি, কুড়িগ্রামে ছাত্র লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও স্থানীয় মজিদা আর্দশ ডিগ্রী কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আতাউর রহমান মিন্টুর ওপর নৃশংস হামলায় মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান বাঁধনসহ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা হবার পর এবং এদের মদদ দাতা হিসেবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর নাম আসায় নিজের অসম্পৃক্ততা দাবি করে বাঁধনসহ অন্য আসামীদের ‘বেপরোয়া’ হওয়ার পেছনে অতীতের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন তিনি।

নিজের ওপর দায় চাপানোর নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু বলেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে মিন্টুর ওপর ন্যাক্কার জনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং বাঁধনসহ অভিযুক্ত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কিন্তু এই ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার হীন চেষ্টার নিন্দা জানাই।

মিন্টুর ওপর হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই জানিয়ে মঞ্জু বলেন,‘২০১০ সালে এই বাঁধনের নেতৃত্বে যুবলীগ কর্মী উজ্জ্বলের হাত কাটা হয়। সেই হামলার বিচার না করে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। এবারের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা আমাদের কেউ নয়, তাদের রাজনৈতিক কোনও পরিচয় নেই।’

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মিন্টুর ওপর হামলার ঘটনাটি নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করে রাজনৈতকি স্বার্থ চরিতার্থ করা অপচেষ্টা হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, যা ঘটেছে তা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। দীর্ঘ দিনের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও পূর্ব শত্রতার কারণে ঘটে যাওয়া একটি পৈশাষিক ঘটনাকে দলীয় পর্যায়ে জড়ানো কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এতে করে দল খাটো হয়, নেতৃত্ব খাটো হয়ে যায়।

জেলার রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এই আওয়ামী লীগ নেতা। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ওবায়দুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান সাজু, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল মোতালেব, হাসান মাসুদ মুকুট, যুবলীগ নেতা গোলাম মওদুদ সুজন প্রমুখ।

সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর