সিরাজগঞ্জে পাঠকের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে পথের বই

চলতি পথে হঠাৎ মনোযোগ কেড়ে নিল পথে দাঁড়িয়ে থাকা বইয়ের তাকটি। আঞ্চলিক রাস্তার পাশে কাঠের ফ্রেমের ওপর লম্বাটে বড় প্লাস্টিকের একটি বাক্স বাঁধানো। আর তাতেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে কিছু বই। আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে গেলাম। বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখব কি না ভাবছি। এরই মধ্যে হাস্যোজ্জ্বল এক তরুণী এগিয়ে এলেন। বললেন, এটা ‘পথেই বই পড়ি’ নামের পাঠাগার। এখানে বসে বইগুলো পড়তে পারেন। চাইলে এককালীন বই নিয়েও যেতে পারেন। তবে বিনিময়ে এখানে একটি বই দিতে হবে। কোন টাকা পয়সা লাগবে না।

তরুণীর নাম সাবিত্রী সাহা। তিনিই এই পথেই বই পড়ি পাঠাগারের উদ্যোক্তা। পথচারী এবং সাধারণ মানুষের আত্মিক তৃষ্ণা মেটাতেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেতকান্দি গ্রামের শ্যামল কৃষ্ণ সাহার বই প্রেমী কন্যা সাবিত্রী সাহার মূলত এ উদ্যোগ।

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গেলে আরও দেখা যায়, ওই সেলফে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, আদালতের রোজনামচা, হুমায়ুন আহমেদের আজ চিত্রার বিয়ে, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিষের বাঁশি, অগ্নিবীণা, সমরেশ মজুমদারের আয় সুখ যায় সুখ, কবি হেলাল হাফিজের যে জলে আগুন জ্বলে, আনিসুল হকের মাসহ অনেক বই।

জানা যায়, সবিত্রী সাহা ছোটবেলা থেকেই বই পড়তে ভালোবাসেন। উপহার হিসেবেও মানুষকে বই দিতে পছন্দ করেন। সেই ভালবাসা থেকেই তিনি নিজেও বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। পথে বই পড়তে আসা কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বার্তা বাজারকে বললেন, বই পড়ার এত সহজ উপায় হাতের কাছে মিলবে, তা ভাবতেও অবাক লাগে। আমি শুরু থেকেই নিয়মিতভাবে এই পথেই বই পড়ি।

স্থানীয় জেলে সমিরন রাজবংশী দৌড়ে এসে বার্তা বাজারকে বলেন, এই লাইব্রেরি তো আমাদের চোখের সামনেই, তাই আমরা দেখে রাখার চেষ্টা করি। যখনি এদিক দিয়ে যাই, তখনি এখান থেকে বই নিয়ে পড়ি।

সাবিত্রী সাহা বার্তা বাজারকে বলেন, অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা বই পড়তে ভালোবাসেন, তবে নিয়মিত বই কিনে পড়ার সামর্থ্য থাকে না। আবার সামর্থ্য থাকলেও সময় করে পাঠাগারে যাওয়া, পাঠাগারের সদস্য হওয়া, নিয়মিত চাঁদা দেওয়া এসব অনেকের কাছেই জটিল মনে হয়। তাই ঝামেলা এড়িয়ে সহজে আর বিনা মূল্যে মানুষকে বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই তাঁর এই উদ্যোগ।

তিনি ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে ২০১৭ সালে মাস্টার্স শেষ করে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন শিক্ষকতা। ওই উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের মালতিদাঙ্গা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকতা করছেন।

তিনি বার্তা বাজারকে আরও জানান, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিজের সংগ্রহে থাকা অল্প কিছু বই দিয়ে বেতকান্দি গ্রামের আঞ্চলিক রাস্তায় পাঠাগারটি চালু করেন। যদিও অনেকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। প্রথমে তো অনেকেই বলেছিল, বই চুরি হয়ে যাবে, এমনকি পুরো পাঠাগারই হয়তো মানুষ উঠিয়ে নিয়ে যাবে। তবে আমি ইতিবাচকভাবে ভাবার চেষ্টা করেছি।

তাই মানুষকে বিশ্বাস করে এই পাঠাগার চালু করার সিদ্ধান্ত নিই। পাঠাগারটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বই হারানোর কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন না। উল্টো আশপাশের মানুষ উৎসাহ দিয়েছেন।

এম এ মালেক/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর