আড়ং-এর মতো নামিদামি একটি প্রতিষ্ঠানকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, এত শক্তিধর এই মৌলবাদী গোষ্ঠী। আড়ং-এর ব্যবসার যে রীতিনীতি তা মৌলবাদীরা মানবে না, সুতরাং আড়ং-এর কর্মকর্তাদের তৈরি করা নিয়ম অনুযায়ী আড়ং চলবে না, চলবে মৌলবাদীদের তৈরি করা নিয়ম অনুযায়ী।
এরা ধরেই নিয়েছে দাড়ি মানেই ধর্মীয় দাড়ি। এরা কি জানে না চার্লস ডারইউনের দাড়ি ছিল, গ্যালিলিওর দাড়ি ছিল, মার্ক্স, লেনিনের দাড়ি ছিল। আব্রাহাম লিংকনের, লিও টলস্টয়ের, এমনকি আমাদের রবীন্দ্রনাথেরও দাড়ি ছিল। হিন্দু পীর যে ধর্ষণের দায়ে এখন কারাগারে, সেই আশারাম বাপুরও দাড়ি আছে। সব দাড়িতে ধর্ম থাকে না। নানা রকম নিরীহ দাড়ি আছে জগতে, বোহেমিয়ান দাড়ি, ফ্যাশানের দাড়ি, শিল্পীর দাড়ি, কবির দাড়ি। ওদিকে আবার আছে মোল্লার দাড়ি, জিহাদি দাড়ি, ইহুদি দাড়ি। ইহুদি-মৌলবাদীদের তো দাড়িই কাটা বারণ।
আড়ং-এর বিরুদ্ধে ইসলামী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ দেখে আমি আক্ষরিক অর্থে প্রমাদ গুনছি। মনে হচ্ছে এরা পুরো দেশকে নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিতে চাইছে। সর্বত্র অবাধ বিচরণ চাইছে। দোষটা সরকারের, সরকার যখন থেকে তাদের মাদরাসার ডিগ্রিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রির সমমানের করে দিল, তখন থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তারা মাদরাসা বলে মনে করছে, আর সব অফিস-আদালত, দোকানপাটকে নিজস্ব সম্পত্তি বলে মনে করছে।
আড়ং-কর্মকর্তা যদি কাউকে চাকরি না দেন বা চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন, তবে আমাদের বুঝতে হবে তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা সকলের কল্যাণের কথা ভেবেই কাজটি করেছেন। কিন্তু মৌলবাদীদের আক্রমণের মুখে আড়ং-এর মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানকেও মাথা নত করতে হলো, দুঃখ প্রকাশ করতে হলো।
এমন অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আছে, যেখানে চাকরি পেতে হলে দাড়ি রাখতে হবে, জোব্বা পরতে হবে, মাথায় টুপি পরতে হবে। এসব ছাড়া সেখানে চাকরি জোটে না। এই নিয়মের বিরুদ্ধে কেউ তো ঝান্ডা নিয়ে বেরোয় না। তবে একটি প্রতিষ্ঠানে যদি জিহাদি দাড়ি নিয়ে আপত্তি করা হয়, তাহলে এত তা-ব কেন? এর মানে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধর্মের রীতি মেনে চলবে, যে প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় নয়, সেসব প্রতিষ্ঠানকেও ধর্মের রীতি মেনে চলতে হবে! সূত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন।
বার্তাবাজার/এসজে