বঙ্গবন্ধু কখনই ১৭ মার্চ জন্মদিন পালন করেননি: তোফায়েল

রাজনৈতিক জীবনে দেশের মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে কখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৭ মার্চ নিজের জন্মদিন পালন করেননি বলে জানিয়েছেন য়য়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ।

বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে ভোলা বাংলা স্কুল মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৭ মার্চ যে দিন বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানের সাথে দেখা করে ধানমন্ডি ফিরেছিলেন তখন সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ধরে বলেছিলেন আজকে আপনার জন্মদিন। আজকের দিনে আপনার প্রত্যাশা কি। তিনি বলেছিলেন, সামগ্রিকভাবে জাতির মুক্তি। তারপর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি আমার জন্মদিন পালন করি না। আমি আমার জন্মদিনে মোমের বাতি জ্বালাই না। আমি কেক কাটি না। যে দেশের মানুষ ক্ষুধা, অর্ধাহারে, অনাহারে মৃত্যুবরণ করে, কথায় কথায় গুলি করা হয় তাদের নেতা হিসেবে আমার জন্মদিনই কি আমার মৃত্যুদিনই কি! আমি তো আমার জীবন বাঙালি জাতির জন্য উৎসর্গ করেছি।

তিনি আরও জানান, ১৯৭১ এ পাকিস্তানের মেওন আলী কারাগারে যখন বন্দি তখন তাকে কারাগারের মধ্যে ফাঁসি দেওয়ার জন্য কবরের পাশে দাঁড় করিয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন আমি কবরকে ভয় পাই না। তোমরা আমাকে ফাঁসি দেবে, দাও। আমি জানি যে বাংলার দামাল ছেলেরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে সেই জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব বলেন, তিনি ছিলেন প্রেরণাদানকারী একজন নেতা। বিশ্বে তিনি ছিলেন একজন মর্যাদাশালী নেতা। বঙ্গবন্ধুর স্নেহেধন্য হয়েছেন উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, বিদেশিরা যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করতেন তা কল্পনা করাও যায় না। যেমন সোভিয়েত ইউনিয়নে গিয়েছিলেন যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি কোসিগিনি, সোভিয়েত প্রেসিযেন্ট নিকোলাই পদগর্নির, পরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে গ্রেমিকো, রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি লিওনিদ ব্রেজনেভ, এই প্রভাবশালী চার নেতা তাকে অভ্যর্থনা জানান।

তোফায়েল বলেন, তিনি যুগোস্লাভিয়া গেলে প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো এবং প্রধানমন্ত্রী জামাল বিয়েদিস জাতীর জনককে অভ্যর্থনা জানান। তিনি মিসরে গেলেন, আনোয়ার সাদাত মিসরের প্রেসিডেন্ট, জাকারিয়া মহিউদ্দিন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। অর্থাৎ পাকিস্তানে গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ফজলে এলাহি, জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুজনেই বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। তিনি এমন একনেতা ছিলেন যার জন্য কোনো প্রটোকল ছিল না। প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী আসেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও অনেক রাষ্ট্রপতিও বঙ্গবন্ধুকে নেওয়ার জন্য বিমানবন্দর আসতেন। আজ জাতির জনকের যোগ্যকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। এ যাত্রায় বাংলাকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে আসবেন বলে জানান তিনি।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর