‘কালো’ বলার অপমান সহ্য হয়নি নাজিমের, ক্ষোভে হত্যা তরুণীকে

সিলেটের বিয়ানীবাজারের তরুণী নাজনিন আক্তার (১৮) হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামি নাজিম উদ্দিন পাশা। আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে বলেন, ক্ষোভ থেকেই নাজনিনকে হত্যা করেছি। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লায়লা মেহের বানুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন পাশা।

স্থানীয়রা জানান, শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা গ্রামের সামসুল হক চৌধুরী ভুক্তভোগী নাজনিন আক্তারকে দত্তক এনে নিজের মেয়ের মতোই লালন-পালন করছিলেন। দুই ছেলের সাথে নাজনিন আক্তারকে নিজের মেয়ের মতোই দেখতেন সামসুল হক।

সম্প্রতি নাজনিনের বিয়ের কথাবার্তা শুরু হলে প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিন পাশা তাকে ভালোবাসে জানিয়ে নাজনিনের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। নাজনিনের বাবা এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। ওই সময় নাজনিন জানান, তার সাথে নাজিম উদ্দিন পাশার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলে নাজনিন উত্তেজিত হয়ে সকলের সামনেই নাজিম উদ্দিন পাশাকে ‘কালো’ বলে কটাক্ষ করে এবং এতে অপমানিত বোধ করে নাজিম উদ্দিন পাশা।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নিজের বসতঘরে টেলিভিশন দেখছিলেন নাজনিন। বাড়ির সকলের অগোচরে পাশা ঘরে ঢুকে মুখ চেপে ধরে দা দিয়ে গলা কেটে নাজনিনকে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুর এলাকার কুশিয়ারা নদীর পাড় থেকে পাশাকে আটক করে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় বার্তা বাজারকে বলেন, নিহত তরুণীর বাবা সামছুল হক চৌধুরী মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার আসামি নাজিম উদ্দিন পাশাকে আদালতে পাঠিয়েছি। পাশা আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ফাহিম আহমদ/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর