করোনাকালে বন্ধ থাকায় বিদ্যালয় বেদখল, মাঠ এখন বাঁশের বাগান

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় কুতুবপুর গ্রামে পিয়ারজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে সারিসারি বাঁশ ও কলাগাছ রোপন করেছে জমিদাতা পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকীর দেওয়া হয়। কোন উপায় না দেখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউএনও বরাবর ও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, কুতুবপুর গ্রামের আছর উদ্দিনের স্ত্রী পিয়ারজান বেগম ১৯৭৪ সালে বিদ্যালয়টির নামে ৫১ শতক জমি দান করেন। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়। ৫ জন শিক্ষক ও ২৮৯ জন শিক্ষার্থীর ওই বিদ্যালয়টিতে পাশের হার শতভাগ। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘদিন পিয়ারজানের ছেলে বাহাউদ্দিন বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তখন জমাজমি নিয়ে কোন আপত্তি উঠেনি। কিন্তু সরকারি করনের পরপরই জমিদাতার পরিবারের লোকজন বিদ্যালয়ের জমি জোরপূর্বক দখলে নিতে বিভিন্ন অপকৌশল চালিয়ে আসছেন। গত ২০১৯ সালে স্লিপের টাকায় বিদ্যালয়ে একটি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার তৈরী করতে গেলে বাধার সম্মক্ষিণ হতে হয়। সর্বশেষ ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারী বরাদ্ধের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হলেও বাধার মুখে নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি।

এ অবস্থায় গত ১২ মার্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দখলে নিয়ে চাষ করে সেখানে সারিসারি বাঁশ ও কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন দাতার ছেলে ও নাতি পুতিরা। এজন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন ১৭ মার্চ নান্দাইল থানায় ও ১৫ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পিয়ারজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টিনের একটি লম্বা ঘর দাড়িয়ে থাকলেও মাঠে হালচাষ করে কলাগাছ ও বাঁশ লাগানো হয়েছে। সেখানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পিয়ারজানের বেশ কয়েকজন নাতি-পুতি উপস্থিত হন।

এসময় নাতি আবুল ইসলাম বাচ্চু ও আল-আমিন জানান, ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয়ে জমি তাদের নামে রেকর্ড হয়েছে। এখন ওই জমি তাদের। তাই নিজেদের জমিতে গাছ লাগিয়েছেন। তাদের কথায় সমর্থন দিয়েছেন ওই পরিবারের অন্য সদস্যগণও।

এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন জানান, ১৯৭৪ সালে পিয়ারজান বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ৫১ শতক জমি জেলা প্রশাসকের নামে দলিল করে দিয়েছেন। তাই বিদ্যালয়টি নামকরণ ওই নারীর নামেই হয়েছে।

তিনি বলেন, তার উপর অব্যাহত হুমকীর কারনে শিশু জরীপ, বিস্কুট প্রদানসহ কোন কাজই তারা করতে পারছেননা। খোলার পরও আর ক্লাস করতে দেবেনা বলেও হুমকী দিচ্ছে জমিদাতার পরিবারের সদস্যরা। আর এখন বিদ্যালয়ের মাঠে গাছ রোপন করেছেন।

মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ওই জমি বিদ্যালয়ের নামে পিয়ারজান লিখি দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিক্ষরা আমাদের কোন কথাই শুনছেনা।

নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক জানান, এতদিন পরে কেন তাঁরা জমির মালিকানা দাবি করছেন তাও বোধগম্য হচ্ছেনা। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। নান্দাইল মডেল থানান ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, তিনি লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছেন। এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ উদ্দিন বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশকে জরুরী ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এখন আইনি ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মজিবুর রহমান ফয়সাল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর