দেশে আবারো বেড়েছে কোভিড-১৯ টেষ্ট

রাজধানীর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ভিড়। করোনা টেস্ট করাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নমুনা দিচ্ছেন তারা। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বয়সে তরুণ। সকাল সাড়ে ১১টা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার দীর্ঘ লাইন। সাভারের আমিনবাজার থেকে করোনা টেস্ট করাতে এসেছেন ৩১ বছর বয়সী সুমন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। গত দু’দিন ধরে রাতে জ্বর আর শরীরে ব্যথা দেখা দেয়ায় করোনার নমুনা দিতে এসেছেন হাসপাতালে।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় সুমনের। তিনি বলেন, আমি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। পরিবারে উপার্জনক্ষম বলতে আমিই। বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও করোনার কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বাবা-মা দু’জনেরই বয়স হয়েছে। এছাড়া অফিস থেকেও বারবার করোনা পরীক্ষার কথা বলা হচ্ছে। নিজের এবং পরিবারের কথা চিন্তা করে করোনা টেস্ট করাতে এসেছেন তিনি।

করোনা ডেডিকেট হাসপাতালগুলোর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করতে তরুণ এবং কম বয়সীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকা থেকে করোনা পরীক্ষা করাতে সেখানে এসেছিলেন তাসলিমা বেগম। মাস্টার্সে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে চাকরি নিই। পাশাপাশি একাধিক টিউশনি করতাম। করোনার কারণে স্কুল এবং টিউশনি দুটিই বন্ধ। স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণার পর নতুন করে দুটি টিউশনি নিয়েছি। কিন্তু তাদের শর্ত হচ্ছে বাসায় শিক্ষার্থী পড়াতে গেলে অবশ্যই করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ ছাড়পত্র এবং ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে। এমনিতে তেমন কোনো উপসর্গ নেই। পেশার তাগিদে করোনা পরীক্ষা করাতে এসেছি।

হাসান নামে মাঝ বয়সী এক যুবক ঢামেকে এসেছেন করোনা পরীক্ষা করাতে। হাসান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গলা ব্যথা কমছেই না। মেসে থাকা রুমমেটরা গলা ব্যথা শুনে ভয় পেয়ে তারাই করোনা পরীক্ষা করাতে পাঠিয়েছে। শ্বাসকষ্ট এবং টনসিলের সমস্যা রয়েছে ছোট থেকেই। এর আগেও করোনা পরীক্ষা করিয়েছি। রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ১৭ বছর বয়সী ছেলে শাওনকে নিয়ে করোনা পরীক্ষা করাতে এসছিলেন তাহমিনা খাতুন। তিনি বলেন, আমরা করোনার ভ্যাকসিন নিলেও ছেলের বয়স কম হওয়ায় করোনা পরীক্ষা এবং ভ্যাকসিন নেয়া হয়নি। গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে জ্বর আসছে। বাতজ্বরের সমস্যা থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসা করায় সেটা নিয়ন্ত্রণে আছে। নিশ্চিত হতে ছেলেকে নিয়ে করোনা পরীক্ষা করাতে এসেছেন বলে জানান তিনি।

গত এক মাস ধরে দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত সোমবার করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১০৩টি। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ৯৩টি। এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউতে) ৪৫২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

গত রোববার ঢাকা মেডিকেলে ১৩১টি, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ৭৯টি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে ৪৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গতকাল ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে ৩৯৫টি, ঢাকা মেডিকেলে ১৮৮টি এবং সোহরাওয়ার্দীতে ৭৫টি নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা করা হয়েছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান বলেন, সম্প্রতি করোনা আক্রান্তের হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার সংখ্যাও বেড়েছে। রোগীও বাড়ছে। মাঝে করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি গা-ছাড়া ভাব চলে আসে।

নতুন এই ইউকে ভেরিয়েন্টে দেখা গেছে, আগে তরুণ বা কমবয়সীরা কম আক্রান্ত হলেও এখন আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। যেটা কিছুটা ভয়ের বিষয়।-মানবজমিন

বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর