চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইটভাটার মাটি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর চাপায় বাইসাইকেল আরোহী নিহতের ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে শতশত গ্রামবাসীর হামলায় আহত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মুনিম লিংকন।
মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কাটাপোল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত ইউএনওকে জীবননগর থানা পুলিশ উদ্ধার করে এনে বাসভবনে চিকিৎসা দেয় ।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটাপোল গ্রামের মাঠ থেকে মাটি ও বালি উত্তোলন করে দেদারছে ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি মহল। এ মাটি নেওয়ার সময় প্রতিদিন অর্ধশত ট্রাক্টর ওই রাস্তা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এনিয়ে এলাকাবাসী চরম বিক্ষুব্ধ ছিলেন। এর প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসী প্রশাসনের কাছে আবেদন করে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন চারদিন আগে দুইজন ট্রাক্টর চালককে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ অবস্থার মধ্যে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শংকরহুদা-বাথানগাছি গ্রামের মঈদুল ইসলাম (৩৪) তার ৭ বছরের শিশু সন্তান রাসেলকে নিয়ে বাইসাইকেলে শ্বশুরবাড়ি জীবননগর উপজেলার নতুন চাকলা গ্রামে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে কাটাপোল গ্রামে দক্ষিণ পাড়ায় তারা পৌঁছালে ট্রাক্টরের ধাক্কায় বাবা-ছেলে আহত হয়। দুর্ঘটনায় মঈদুলের মাথার ঘিলু বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই মঈদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। বাবাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সড়ক অবরোধ করে রাখে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাবার পর গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথে দু’শতাধিক লোক তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় বিক্ষুদ্ধ জনতা তার ওপর হামলা চালায়। এসময় তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে বিক্ষুব্ধ লোকজন ইউএনওকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় একটা ইট তার মাথায় লাগে মাথা থেকে রক্ত বের হতে শুরু করে। অবস্থার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি পার্শ্ববর্তী জমির উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এসময় বিক্ষুব্ধ লোকজনও ওই বাড়িতেও হামলা চালায়। খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. হাফিজুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে দিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করেন এবং অবরুদ্ধ থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কৌশলে উদ্ধার করে তার বাসভবনে নেন।
জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. হাফিজুর রহমান জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তিন শতাধিক মানুষ ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিক্ষুব্ধ লোকজন খুবই উত্তেজিত ছিল। আমি কৌশলে ইউএনওকে উদ্ধার করে তার বাসভবনে নিয়ে আসি এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।
জীবননগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ৫ মিনিট আগে আমি ওখানে পৌঁছাই। আমি বিক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এসময় ইউএনও মহোদয় গাড়ি থেকে নামার পরই উত্তেজিত লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান।
বার্তাবাজার/এসজে