রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিন ফসলি কৃষি জমির উর্বর মাটি রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে মাটিখেকোরা। উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের ৩নং মৌজার রিফায়েতপুর চকের প্রায় ১৫শত একর বহু ফসলি জমির মধ্যে ৫শত একর জমির মাটি ১৫-২০ ফিট গভীর করে কেটে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা।
মাটি কাটার পাশপাশি ইটভাটার তাপে পুড়ছে ফসলও। প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিয়েও মিলছে না এর প্রতিকার।
আইন অমান্য করে তিন ফসলি জমির উর্বর মাটি সরবরাহ করছে ইটভাটায়। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে বিশাল খাদ্য ভান্ডার কৃষি জমি। ইট ভাটায় এসব টপসয়েল বিক্রি ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে গড়ে উঠেছে মাটিখেকোদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেকু দিয়ে রাতের আঁধারে জমির টপসয়েল কেটে ১৫/২০ ফিট গভীর জলাশয়ের তৈরি করেছে। ফলে ভেঙ্গে যাচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি। বাধ্য হয়েই কৃষক ফসলি জমি বিক্রি করে দিচ্ছে ঐসব সিন্ডিকেটের কাছে। কৃষি জমির উপর ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে মাটিখেকো ইটভাটার মালিকসহ সিন্ডিকেট।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ৫-এর ১ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার জন্য কৃষি জমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে তা ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পরবে না। কিন্তু ভাটার মালিকরা এই আইনের কোন তোয়াক্কাই করছে না।
এছাড়া অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেয়া এবং ভাটা নীতিমালা না মানায় তিন ফসলি জমির মাটি ভেকু দিয়ে দেদারসে কেটে ভাটায় নিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক ইমরান বার্তা বাজারকে জানান, যেভাবে জমি থেকে গভীর করে মাটি কাটছে ভারি বৃষ্টিপাত হলে স্থায়ী জলবদ্ধতা এবং আমাদের জমি ভেঙে পড়বে।
কৃষক ফজর আলী ও তার ভাই আনোয়ার আলী বেপারী বার্তা বাজারকে জানান, রিফায়েতপুরের এই চকের ৮০ শতাংশ জমিতে ইরি ধান আবাদ করেছেন তারা। এছাড়াও এ জমিতে ধনিয়া, সরিষা ও শাঁক সবজির চাষও হয়। পাশের জমি থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেয়ার ফলে তাদের আবাদ করা ধান ক্ষেত এখন ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম।
জানা গেছে রিফাইয়েতপুর, চান্দহর, ফতেপুর ও বাঘুলি ৪ মৌজার এই চকে ২০ গ্রামের প্রায় ১ হাজার কৃষকের জমি রয়েছে। প্রতি রাতে মাটি কেটে নেয়া হলেও মাস্তানদের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না কৃষক।
তারা বার্তা বাজারকে আরো জানান, পুনরায় গত ৯ মার্চ ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরপরেও থেমে নেই মাটি কাটার কাজ। এদের হাত থেকে কৃষি জমি বাঁচানোর আকুতি জানান কৃষকরা।
এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা বার্তা বাজারকে বলেন, মালেক জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
মিলন মাহমুদ/বার্তাবাজার/হৃ.আর