বগুড়ায় ছাত্রলীগের ২ পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাহত তাকবিরের মৃত্যু
বগুড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে আহত জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শজিমেকের উপ পরিচালক ডাঃ আব্দুল ওয়াদুদ।
ডাঃ ওয়াদুদ জানান, গত ১১ মার্চ রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকবিরকে ভর্তি করানো হয়। তার শরীরে একাধিক জখম চিহ্ন ছিল। মূলত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, হার্টের সমস্যা এবং বুকে আঘাতের কারণে ভর্তির পর থেকে তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকজাল ৩টা ৫ মিনিটে তাকবির মারা যান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ)রাতে মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। শহরের সাতমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ৫ জন আহত হন। আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য শজিমেকে ভর্তি করানো হয়। তবে আহতদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খানের অবস্থা সবেচেয়ে গুরুতর ছিল।
এ ঘটনার ৩ দিন পর ১৩ মার্চ দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে সদর থানায় পাল্টাপাল্টি পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবীর ইসলাম খানের মা আফরোজা ইসলাম বাদী হয়ে আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের মামলা করেন।
অপরদিকে আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ হাসান বাদী হয়ে তাকবীর ইসলাম খানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাত জনের মামলা করেন।
তাকবীর ইসলামের মা আফরোজা ইসলাম করা মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন জাহিদ হাসান (২৬), আনোয়ার হোসেন (২৭), মো. তারেক (২৭), বিধান চন্দ্র মোহন্ত (২৭), নিশাদ (২১) ও আরমান (২২)।
অপরদিকে, আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য সোহাগ হাসানের দায়ের করা মামলায় নাম উল্লেখিত অন্য আসামীরা হলেন তোফায়েল আহমেদ, হাসিবুল হাসান শান্ত, আব্দুল্লাহ ঈমন, জয় কুমার দাস, শাহাদত জামান সঞ্জয়, সামিউল পরান সজল, সিজান রহমান, ফেরদৌস আলম সাফি, মাহবুবুল সাফিন, হাবিবুর রহমান ও মেহেদী হাসান।
এ ঘটনায় সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে
খালিদ হাসান/বার্তাবাজার/পি