পিরোজপুরে চিকিৎসকদের অবহেলায় বাড়ছে অপরাধ ও মিথ্যা মামলা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মেডিকেল সার্টিফিকেটজনিত অবহেলায় একদিকে মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছে নিরীহ মানুষ অন্যদিকে নরমাল সার্টিফিকেট প্রদান করায় পার পেয়ে যাচ্ছে প্রকৃত অপরাধীরা। একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধানে বিষয়টির সত্যতা মিলেছে।

গত ১২ মার্চ সকালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারামারি ঠেকাতে গিয়ে সামান্য আহত হয় হাসি বেগম (৩৫)। ভর্তি হয় মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভর্তি রেজিঃ নং-৩২৭৫। ৭ সপ্তাহের প্রেগন্যান্ট ওই নারীর উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ইউএসজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দিলেও তা না করে একদিন পরেই বরিশালে রেফার করা নিয়ে তদবির শুরু করেন রোগীর বাড়ির লোকজন। চিকিৎসক রেফার দেন ঠিকই, তবে নিয়মানুযায়ী উল্লেখ করেন ‘ফর পার্টি’স ডিমান্ড’।

এ লেখাটি কাটার জন্য আবারও শুরু হয় তদবির। এক পর্যায়ে কাটতেই হয় এ লেখাটি। কেন কাটতে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক জানান, আসলে চাপের মুখে আমাদের এটা করতে হয়।

রেফারের পর ওই রোগীর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড়িতে অবস্হান করার কথা। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের বিষয়ে টের পেয়ে রেফারের একদিন পর গিয়ে ভর্তি হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এদিকে, সেবিকা রানী (৩০) সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ভর্তি হন মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভর্তি রেজিঃ নং- ১৪৯৭/২৮। রোগীর বিবরনে উল্লেখ করা হয় রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট (আরটিএ)। একদিন পর আরটিএ কেটে লেখা হয় ফিজিক্যাল এসাল্ট (পিএ)।

এমনটি কেন করা হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, ভর্তির সময় রোগী সড়ক দুর্ঘটনা বললেও একদিন পর হামলার শিকার হওয়ার কথা জানায়। এজন্য রেজিস্ট্রার বহিতে আরটিএ কেটে পিএ লেখা হয়।

ঘটনা এখানেই শেষ না। অনুসন্ধানে বের হয়ে আসলো নতুন আরেকটি ঘটনা।

ঘটনাটিতে জানা যায়, উপজেলার পাঁচশত কুড়া এলাকার একটি ঘটনায় ভিকটিমের হাত ভেঙে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশালে রেফার করা হয়। চিকিৎসা শেষে পুলিশ কেসের জন্য বরিশাল শেবাচিম থেকে লিখে দেওয়া হয়-প্রথম চিকিৎসাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ভিকটিমের কোন ইনজুরি নোট লিখে না রাখায় মেডিকেল সার্টিফিকেট নরমাল দেওয়া হয়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম চিকিৎসা দানকারী প্রতিষ্ঠান পুলিশ কেসে মেডিকেল রিপোর্ট প্রদান করবে মর্মে চিঠি প্রাপ্ত হয়েও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলায় ভিকটিমের ইনজুরি নোট না লেখায় একদিকে মিথ্যা মামলা অন্যদিকে অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হাসনাত জাকী বলেন, মেডিকেল রিপোর্টের বিষয়ে আমাদের কাছেও মাঝে মাঝে অভিযোগ আসে। তখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখি। আর ভিকটিমের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় অবশ্যই ইনজুরি রিপোর্ট লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর