সিরাজগঞ্জে করোনার টিকায় নারীর আগ্রহ কম
সিরাজগঞ্জে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীদের আগ্রহ অনেক কম। টিকার জন্য অনলাইনে নারীদের নিবন্ধনের হারও কম। টিকার ইতিবাচকতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা কম হওয়ায় এবং টিকাভীতির কারণে এ সমস্যা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জেলা ইপিআই সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. গোলজার হোসেন জানান, জেলায় প্রথম কিস্তিতে করোনা ভাইরাসের ৯৬ হাজার ডোজ টিকা পৌঁছায়। ওই টিকা নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ ২১) পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার ৬৯ হাজার ৩’শ ৮৮ জন। এর মধ্যে শনিবার (১৩ মার্চ) পর্যন্ত টিকা গ্রহণ করেছে ৩৩ হাজার ৩’শ ৭০জন পুরুষ ও ২০ হাজার ৬’শ ৭৪ জন নারী। নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্যে সিংহ ভাগই পুরুষ।
টিকা নেওয়ার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. রুবেল আহম্মেদ বলেন, টিকা নেওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। কোনো জটিলতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। যেহেতু পুরুষের তুলনায় নারীদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিছুটা কম, সেহেতু সব নারীদেরও উচিত করোনার টিকা নেওয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক বলেন, টিকা নেওয়ার জন্য স্থানীয় লোকজনকে তেমনভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে না। টিকার ইতিবাচক দিক নিয়েও লোকজনকে সচেতন করা হয়নি সেভাবে। এ ছাড়া অনেকের মধ্যেই টিকাভীতি কাজ করছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি। কারও কারও মধ্যে টিকা নিয়ে কুসংস্কারও রয়েছে। এসব কারণে টিকা গ্রহণে বা টিকার নিবন্ধনে নারীরা তেমনভাবে উৎসাহিত হচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আশরাফুল নাহার বলেন, টিকা গ্রহণের জন্য প্রতিটি উপজেলায় প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। টিকার জন্য যাঁরা অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন বা যাঁরা এখনো নাম নিবন্ধন করেননি, তাঁদের টিকা নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। টিকা গ্রহণকারী লোকের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/পি