ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
নওগাঁর ধামইরহাটে ৩নং আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ বন্টনে স্বজনপ্রীতি, বিধি বহির্ভুতভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়, এল,জি,এস,পি‘র বরাদ্দকৃত সেলাই মেশিন ক্রয়ে দুর্নীতি, পুকুরের গাইড ওয়াল দেবার নাম করে গ্রামবাসীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার বিভাগ, নওগাঁ, চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উপজেলা প্রকৌশলী ধামইরহাট বরাবর গত জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এনিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে চরম আঁকারে।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্য মো. রবিউল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান ২০১৯-২০ অর্থ বছরে জুন মাসে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা সত্বেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কোন আলোচনা ছাড়াই বিধি বহির্ভুত ভাবে ট্যাক্স আদায় শুরু করেন। অদ্যবধি পর্যন্ত পরিষদের আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক ইউপি সদস্যদের কোন সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবার জন্য প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করে সুষ্ঠু বিচারের আশায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ পত্র দায়ের করেছি।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এল,জি,এস,পির মোট বরাদ্দ ২৪ লক্ষ ৫৪হাজার ৭শত ১৩টাকা হতে প্রত্যেক সদস্যকে নিজ ওয়ার্ডে কাজ করার জন ১লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ দেন। এছাড়াও ওয়ার্ডে প্রকল্প গ্রহণ করার সময় সভা না করে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই ব্যক্তি স্বার্থে স্বজনপ্রীতি মুলক আচরণ ও অর্থ আত্নসাৎ করার লক্ষে চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান একক ভাবে প্রকল্প দাখিল করেন।
আরও উল্লেখ্য যে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে এল,জি,এস,পির বরাদ্দ হতে হতদরিদ্র মহিলাদের অত্নকর্ম সংস্থানের জন্য ৪৩টি শেলাই মেশিন সরবরাহ করা হয়। যার ক্রয় বাবদ মোট মুল্য ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। তাতে প্রতিটি শেলাই মেশিনের মুল্য ৩ হাজার টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয় এল, জি, এস, পির বরাদ্দ হতে বীরগ্রাম দক্ষিন পাড়া পুকুরের জন্য ঘাট নির্মাণ দেখিয়ে অর্থ আত্নসাৎসহ অত্র ইউপির ঘাসি পুকুর গ্রামের একটি পুকুরের গাইড ওয়াল দেওয়ার জন্য এল, জি, এস, পি বরাদ্দ হতে সম্পুর্ণ করা হলেও পুকুরের গাইড ওয়াল দেওয়ার নাম করে গ্রামবাসীর কাছ থেকে ৬০হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই ইউনিয়নের বলরাম পুর গ্রামে একটি রাস্তার পুরো অংশ পুকুরের ভেতরে বিলীন হয়ে গেছে। রাস্তাটি মেরামত না করায় সেখানে ভ্যান রিক্সা তো দুরের কথা গ্রামের সাধারণ মানুষের পথ চলা অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাদের পথ চলতে হয় অন্য মানুষের ভিটে-মাটির উপর দিয়ে। নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে ওই গ্রামের নারি-পুরুষ সকলেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অঙ্গুল তুলে কথা বলতে দেখা গেছে।
ধামইরহাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান পরিষদের কোন সদস্যদের পরামর্শ তো দুরের কথা সমাজের গুণী ব্যক্তিদের পরামর্শ ছাড়ায় ইচ্ছে মতো ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করে আসছেন। অথচ আমরা তাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছি। তার বিরুদ্ধে একটি নয় হাজার হাজার অভিযোগ রয়েছে। একজন চাতালের কর্মচারী থেকে তিনি হয়ে গেছেন কোটিপতি। একটি ইট ভাটার মালিকসহ এতো টাকা পেলেন কোথায় তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
কাপড় ব্যবসায়ী ছালেমির জানান, আমার বাড়ির পাশে পুকুরের গাইড ওয়াল দেবার নাম করে চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান আমিসহ আরো কয়েকজনের কাছ থেকে মোট ৬০হাজার টাকা নিয়ে কাজ করেননি। পরে জানতে পারলাম তিনি একটি প্রজেক্ট থেকে টাকা তুলে আংশিক গাইড ওয়ালের কাজ করেছেন। আমার দেওয়া ওই টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানান টাল বাহানা করে সময় পার করছেন।
এবিষয়ে চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, ইউপি সদস্য রবিউল ইসলামের অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। এ বিষয়ে এলাকায় আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। কিছু লোক আছে তারা আমার কাছ থেকে টাকা পয়সা সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় এমন অভিযোগ করেছে যা ভিত্তিহীন।
উপজেলা প্রকৌশলী আলী হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগের কপি পেয়ে দ্রুত তদন্ত করেছি। ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে আংশিক সত্যতার প্রমান পাওয়ায় অভিযোগের উপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন কপি ইউএনও মহোদয়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার গনপতি রায় বলেন, অভিযোগের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন কপি আমি পেয়েছি। বিষয়টি আরো একবার তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ নওগাঁ ডিডিএলজি’র শাহ নেওয়াজ বলেন, আমাদের কাছে একটি অভিযোগ পত্র এসেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলায় পাঠানো হয়েছে।
রেজুয়ান আলম/বার্তাবাজার/পি