সরিষাবাড়ীতে অযত্ন-অবহেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধে নিহত শহীদ বেলালের স্মৃতিচিহ্ন
অযত্নে অবহেলায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কান্দারপাড়া এলাকায় প্রতিরোধ যুদ্ধে নিহত শহীদ বেলাল হোসেন এর স্মৃতিচিহ্ন। এখন আর কেউ যায় না শ্রদ্ধা জানাতে। শহীদ মিনারের সেই দেয়ালটি ভেঙ্গে ছোট্ট ও সরু তিনটি পিলার করা হয়েছে, যা একটু দূর থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি কি।
শহীদ মিনারটি থেকে মাত্র ৪/৫ ফুট পূর্ব পাশে একটি পাঁকা মসজিদ, উত্তরে হাফিজিয়া মাদ্রাসা, দক্ষিণে টয়লেট ও প্রসাবখানা করা হয়েছে। পশ্চিম দিকে রেলওয়ের জমিতে করা হয়েছে পুকুর। যে কোন সময়ই পশ্চিম দিকে হেলে পড়ে পুকুরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে রক্তস্নাত ঘটনাস্থলের স্মৃতিচিহ্নটি। এমন পরিস্থিতিতে ছোট্ট হলেও একটি “শহীদ বেলাল স্মৃতি যাদুঘর” নির্মাণ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস রক্ষা করা সম্ভব না বলেও মনে করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
শহীদ বেলালের যুদ্ধসঙ্গী এবং সেই যুদ্ধে আহত হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের ২৬ তারিখে আনুমানিক সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের সময় বর্তমানে যমুনা সারকারখানা সংলগ্ন তারাকান্দি এরিয়ায় যুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী কোম্পানি কমান্ডার প্রয়াত রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ২৭ সদস্যের একটি ইউনিট চার ভাগে বিভক্ত হয়ে আমরা কান্দারপাড়া বাজারে অবস্থান নেই। কান্দার পাড়া বাজার এলাকায় যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের অবস্থানস্থল দুর্বা ঘাসে আচ্ছন্ন ছিল, আমরা ঐ ঘাসের মধ্যেই পরিখা/মরিচা খনন করে পজিশন নিয়েছিলাম। আামি, বেলাল হোসেন, আমজাত হোসেন, ইউসুফ আলী, জামাল উদ্দিন ও হাবিবুর রহমান একযোগে (“বর্তমানে শহীদ বেলাল নগর”) দুর্ধর্ষ পাক হানাদার বাহিনীর সাথে আমাদের মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়। যা মুহুর্তের মধ্যেই ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধে পরিনত হয়। এই যুদ্ধে পাক বাহিনীর ৫ জন এবং মুক্তিবাহিনীর আমি, বেলাল ও আমজাত আহত হই। পরে বেলালকে হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে এই স্থানেই হত্যা করে।
পরে ১৯৭২ সালে রক্তে রঞ্জিত সেই স্থানটি কোম্পানি কমান্ডার প্রয়াত রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১০/১২ ফুট ব্যাসার্ধের সমপরিমাণ জায়গা ইট দিয়ে ঘেরাও করে একটি শহীদ মিনার চিহ্নিত করে। আমি তখন পাশেই পোগলদিঘা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। তারপর থেকে প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে প্রধান শিক্ষক প্রয়াত মুজিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে খালি পায়ে হেটে এখানে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন শিক্ষকসহ ছাত্র-ছাত্রীরা। কিন্তু এখন আর কেও সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে যায় না।
তাই আমিসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী যাতে জরুরী ভিত্তিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ও ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেন। আমাদের মৃত্যুর আগে দেখে যাবার সুযোগ করে দিবেন। জীবনের শেষ সময়ে সামান্য এ আশাটুকু তো করতেই পারি।
মোস্তাক আহমেদ মনির/বার্তাবাজার/পি