মাঠে নামার আগে ভারত-পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলে চলছে যুদ্ধ

‘এসব জঞ্জাল দিয়ে ম্যাচটা নিয়ে আর হাইপ তোলার দরকার নেই। এই ম্যাচ নিয়ে এমনিতেই মানুষের যথেষ্ট আগ্রহ আছে। এটা নিছকই একটা ক্রিকেট ম্যাচ, আর কিছুই নয়। যদি আপনারা ভেবে থাকেন এটি খেলার চেয়ে বেশি কিছু, তাহলে বলব, এসব ভাবা বাদ দিয়ে নিজেদের জীবনটা একটু উপভোগ করুন না!’

ওপরের মন্তব্যটি ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার। আগামী পরশু ভারত-পাকিস্তান মহারণ, তার আগে অনেকটা অবধারিতভাবেই কথা বলতে হয়েছে সানিয়াকে। কিন্তু কী নিয়ে এমন খেপেছেন তিনি? জঞ্জালই-বা কাকে বলছেন?

গত কয়েক দিন ভারত ও পাকিস্তানের খেলাবিষয়ক চ্যানেলগুলো যাঁরা অনুসরণ করেছেন, তাদের পক্ষে বিষয়টা আঁচ করা খুব একটা কঠিন হবে না। উপমহাদেশের দুই বড় দলের লড়াইয়ের আগে বিজ্ঞাপনি লড়াইকে যে রীতিমতো কাদা ছোড়াছুড়ির পর্যায়ে নিয়ে গেছে দুই দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো!

শুরুটা করেছে ভারতীয় চ্যানেল স্টার স্পোর্টস। বিশ্বকাপে ছয়বারের মোকাবিলায় কখনোই ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। বিশ্বকাপ এলে প্রতিবারই বিষয়টি নিয়ে খোঁচাখুঁচি শুরু করে ভারতীয় মিডিয়া। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কালকের ম্যাচকে সামনে রেখে ৪১ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপন বানিয়েছে স্টার স্পোর্টস, যেখানে দেখা গেছে সপ্তমবার ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে পাকিস্তানের জার্সি পরা একজনকে শুভকামনা জানাচ্ছেন বাংলাদেশের জার্সি পরা আরেক ব্যক্তি। জবাবে পাকিস্তানের সেই সমর্থক বলছেন, ‘চেষ্টা করে যেতে হবে। যারা চেষ্টা করে, তারা কখনো হারে না। একদিন না একদিন ঠিকই সাফল্য আসবে। বাবা তো এমনটাই বলতেন।’

খোঁচাটা দেওয়া হয়েছে ঠিক এর পরেই। বিজ্ঞাপনের এই পর্যায়ে ভারতের জার্সি পরা একজন হঠাৎ বলে ওঠেন, ‘চুপ পাগল, আমি এমনটা কবে বললাম!’ এই উক্তির মাধ্যমে স্টার স্পোর্টস বোঝাতে চেয়েছে, বিশ্বকাপে ভারত তো পাকিস্তানের ‘বাবা’! এরপর বিজ্ঞাপনের শেষে ‘হ্যাপি ফাদার্স ডে’ লিখে চোখ টেপার একটি ইমোজিও দেওয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ম্যাচটা যেদিন, সেই ১৬ জুনই আবার এ বছরের বাবা দিবস! খোঁচাটা কোন জায়গায় দিয়েছে স্টার স্পোর্টস, বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় এবার।

এমন বিজ্ঞাপনের পর পাকিস্তান পাল্টা কোনো জবাব দেবে না, সেটাই বা কী করে হয়! দেরি করেনি তারাও। পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেল জাজ টিভি পাল্টা একটা বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের সীমানায় আটক হওয়া ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানের আদলে একজন ভারতীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায় বিজ্ঞাপনটিতে। প্রথমে প্রশ্ন করা হয়, ‘টসে জিতলে কী করবে?’ অভিনন্দনের মুখের আদলে সাজানো ভারতের জার্সি পরা লোকটি জবাব দেন, ‘দুঃখিত স্যার, আমি আপনাকে এটা বলতে বাধ্য নই।’ এরপর আবার প্রশ্ন করা হয়, ‘একাদশে কারা কারা থাকবে?’ এবারও ভারতীয় ওই ব্যক্তি জবাব দেন, ‘আমি দুঃখিত, এটাও আমি বলতে বাধ্য নই।’

আরও একটি প্রশ্ন করার পর তাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে হাতে থাকা চায়ের কাপটি নিয়েই উঠে যান তিনি। তখন তাকে আটকে দিয়ে বলা হয়, ‘এক সেকেন্ড দাঁড়াও। কাপ কোথায় নিয়ে যাচ্ছ!’ ৩২ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনটির শেষে দেখানো হয়, ‘চলো এবার কাপ নিজেদের ঘরে নিয়ে আসি।’ কাপ দিয়ে যে এখানে প্রতীকী অর্থে বিশ্বকাপ শিরোপাকেই বোঝানো হয়েছে, আর ভারতকে জিততে না দিয়ে সেটি দেশে আনতে চাচ্ছে পাকিস্তান, এ ব্যাপারটিও স্পষ্ট করে দিয়েছে জাজ টিভি।

দুই দেশের দুই চ্যানেলের এমন কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়েই চলছে যত সমালোচনা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে কিছুটা খোঁচাখুঁচি হবে সেটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সেটা নোংরামির পর্যায়ে চলে যাক, এটা বোধ হয় কারওরই কাম্য নয়।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর