শেরপুরে পৌরসভার প্যানেল মেয়র নির্বাচনে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ
বগুড়ার শেরপুরে পৌরসভার প্যানেল মেয়র নির্বাচনে অনিয়ম ও ফলাফলে জাল-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে ফলাফল বাতিল করে পুনর্নিবাচন দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শনিবার(১৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান পৌরসভার প্যানেল মেয়র নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি দেড়শ’ বছরের প্রাচীন এই শেরপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলররা শপথ নিয়ে দায়িত্ব বুঝে নেন। সেইসঙ্গে গত ০৯মার্চ প্যানেল মেয়র নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। এতে সরকার দলীয় দুইজন কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র পদে প্রার্থী হন। তাঁরা হলেন- কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি ও নাজমুল আলম খোকন।
সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা সম্ভব না হওয়ায় গোপন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহন করা হয়। এতে মেয়র-কাউন্সিলরসহ ভোটার ছিলেন মোট ১৩জন। মেয়র ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। আর বাকি ১২জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরমধ্যে ১টি ভোট দুই প্রার্থীকে দেয়ায় বাতিল করা হয়েছে। ১১টি প্রদত্ত ভোটের ফলাফলে বেশি ভোট দেখিয়ে ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাজমুল আলম খোকনকে প্যানেল মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টানো হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর নামে দেখানো হয়েছে তাই নির্বাচনের পরদিন থেকেই ভোটের ব্যালটসহ ফলাফলের ফাইলটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্যানেল মেয়র নির্বাচন ও ফলাফল প্রত্যাখান করে কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি অভিযোগ করে বলেন, বিধি মেনে নির্বাচন করা হয়নি। নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিরপেক্ষ কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। গঠন করা হয়নি কোনো নির্বাচন কমিশন।
এছাড়া নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সময় ছিল সকাল দশটা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো ভোট নেওয়া হয়নি। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তড়িঘড়ি করে ভোট নিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত সবার সামনে ব্যালট উন্মুক্ত করে ভোট গণনার দাবি জানানো হলেও সেটি করা হয়নি। আমার প্রাপ্ত ভোটের ব্যালট দেখতে চাইলেও দেখানো হয়নি। এসব কর্মকাণ্ডে ওই নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ সংশয় আরও বেড়ে গেছে। তাই গায়েবি ভোট ও ফলাফল বাতিল করে পুনর্নিবাচন দেওয়ার দাবি জানান তিনি। এসময় তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর শুভ ইমরান, কাউন্সিলর চন্দন কুমার দাস রিংকু ও ফারুক ফয়সাল সোহাগ।
এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চাইলে শেরপুর পৌরসভার সচিব ইমরোজ মুজিব এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে বলেন, যথাযথ বিধি অনুসরণ করেই প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়েছে। প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে পাঁচটি ভোট পেয়েছেন বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি আর ছয়টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নাজমুল আলম খোকন। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। তাই পুর্ননির্বাচন দেওয়ার কোনো বিষয় নেই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর পৌরসভার মেয়র জানে আলম খোকা বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়েছে। সব কাউন্সিলরের সামনেই ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেই ফলাফল মেনে নিয়ে তারা দুইজনই স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের দুই দিন পর এসে ভোটের ব্যালট দেখতে চাওয়াসহ ওই কাউন্সিলর যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/পি