কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আসামী না করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সঠিক তদন্তের দাবী জানান এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ভাটেরার চর গ্রামের মৃত মনির মিয়া ছেলে সৌদি প্রবাসী মুক্তার হোসেনের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী মৌসুমি আক্তার ওরফে সুমির পরকীয়ার টানে পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলার সবজি কান্দি গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে আরিফ(২৫) ৪ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে দেখা করতে আসলে রাত আনুমানিক ১০টায় ভাটেরার চর গ্রামের চিহ্নিত কয়েকজন অপরাধী আরিফকে সুমির ঘর থেকে ধরে এনে এলোপাতারী পিটিয়ে হত্যা করে।
এদিকে আরিফ হত্যার ঘটনায় তার বড় বোন সাবিনা ১৭ জনকে আসামী করে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে যার নং-০২ তাং ৬/৩/২০২১ইং।
তবে মামলার বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আসামী না করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে ভাটেরার চর গ্রামের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানান, আরিফকে মৌসুমীর বসত ঘর থেকে মফিজ, স্বজল, বাবু ও আল আমিন তারা ৪ জন ধরে বাহীরে এনে এলোপাতারী পিটিয়ে মারাত্নকভাবে আহত করে এবং স্বজনরা আরিফকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে আরিফ মৃত্যু বরণ করেন। যারা জড়িত তাদেরকে আসামী না করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে।
তাদের দাবি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।
আরো জানা যায়, ঘটনার সাথে জড়িত বাবু নামের এক ব্যক্তিকে মামলার স্বাক্ষী বানিয়েছেন, তবে স্বাক্ষী বাবুসহ বাকী ৩ জনও পালাতক রয়েছে। এদিকে মামলার বাদী সাবিনার নিকট জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও সে ফোন রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া সরকার বলেন, যতটুকু জেনেছি ভাটেরার চর গ্রামের যাদেরকে আসামী করা হয়েছে মৌসুমিকে ছাড়া তারা সকলেই নিরপরাধ,সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি অনুরোধ জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মধু সুধন বলেন, মামলা তদন্তাধীন আছে তদন্ত শেষে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।
মোঃ আসলাম/বার্তাবাজার/পি