কুড়িগ্রামে প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই লাখো মানুষের অংশগ্রহনে শুরু হয়েছে ইজতেমা। জেলা সদরের ধরলা সেতুর পূর্ব দিকে প্রতিবছরের মতো এ বছরেও এ ইজতেমা শুরু হয়েছে । তবে গতবছর ২০২০ সালে করোনার মহামারী ব্যাপক থাকায় প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় সে বছর ইজতেমা ৩ মাস পেছানো হয়েছিলো ।
করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে সব ধরনের জামায়াত, সভা-সমাবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) থেকে কুড়িগ্রাম সদরের ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ের ১৪ মার্চ সকাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইজতেমার অনুমতি নামঞ্জুর করা হয়েছিলো।
মঙ্গলবার (৯ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা আদেশ দিয়েছিলো কুড়িগ্রাম প্রশাসন । অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম ।
নিষেধাজ্ঞা দেয়া ঐ আদেশে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ , মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা হতে প্রাপ্ত ৩০ জুন ২০২০ খ্রিঃ তারিখের ১২৩ নং পত্রে করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯ ) এর কারণে সকল প্রকার সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। উক্ত পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ কার্যালয়ে ২০ জুলাই ২০২০ খ্রিঃ তারিখের ৪৬৭ নং স্মারকে সকল প্রকার সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ রাখার বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে ।
এমতাবস্থায় , মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে তার দাখিলকৃত আবেদনটি নামঞ্জুর করা হলো।
ইজতেমার ১ দিন আগে বুধবার (১০ মার্চ) এ আদেশের কপি আয়োজক কমিটির হাতে আসায় কিছুটা বিপাকে পড়েন কর্তৃপক্ষ। এরপূর্বে সকল ধরণের প্রস্তুতি সমপন্ন হয়ে গিয়েছিলো ইজতেমার পুরো ময়দান,লোকজনও আসা শুরু করেছিলো । বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ)সকাল থেকে করোনা মহামারীর এই সময়ে বিনা অনুমতি ছাড়াই শুরু হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার বিশাল এই ইজতেমা । যেখানে জেলার ৯ উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষরাও এতে অংশগ্রহন করেন ।
বহুবছর থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হওয়া এই ইজতেমায় প্রতি বছর কুড়িগ্রাম জেলাসহ বিভিন্ন জেলার প্রায় ১০-১৫ লক্ষ মুসুল্লী অংশগ্রহণ করে বলে জানায় আয়োজকেরা।
বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুল্লাহ বার্তা বাজারকে বলেন, অনুমতির জন্য ১মাস আগে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের পরামর্শ মোতাবেক সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছে, আশ্বস্ত করেছে। তাই ইজতেমা শুরু হলো আজ থেকে। এখন যদি কোন ব্যাত্যয় ঘটে তাহলে সবার কাছে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হবো।
আয়োজক কমিটির প্রচার উপকমিটির সদস্য সচিব আব্দুল মোমেন বার্তা বাজারকে জানান, আমরা এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সীমিত পরিসরে ইজতেমার আয়োজন করেছি। পাশাপাশি মহামারীর কারণে এবছর আমরা মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করা তাবু গুলো বন্ধ রেখেছি, যাতে অতিরিক্ত জমায়েত না হয়। আশা করি এবছর মুসুল্লির সংখ্যা সব থেকে কম হবে।
এব্যাপারে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা বার্তা বাজারকে বলেন, আদেশের কপি আমরা পেয়েছি। তারা এখনো অনুমতি পায়নি। তারা একাধিকবার আমাদের কাছে এসেছিলো, কিন্তু অনুমতি দেয়া হয়নি।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বার্তা বাজারকে জানান, তারা এখনো কোন অনুমতি পায়নি। আমাদের কাছে আবেদন করেছিলো কিন্তু অনুমতি দেয়া হয়নি। তারা যদি তারপরেও অতিরিক্ত জমায়েত করে তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/হৃ.আর