সিরাজগঞ্জে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

চাঁদাবাজির অভিযোগে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপন (৪৫) এর বিরুদ্ধে অর্থ আতসাৎ ও চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রায়গঞ্জ থানা আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ওই উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের বন্দিহার গ্রামের মো. আব্দুল মান্নান (৫২)।

অভিযুক্ত আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপন ২নং সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- একই ইউনিয়নের বাসাইল জুব্বারের ছেলে মো. সোরহাব আলী (৩৮), মৃত আজাহার আলীর ছেলে আহমাদ (৫০), ভুইয়ট গ্রামের মৃত আসমত আলীর ছেলে জয়নাল হোসেন (৫৮) ও তার দুই ছেলে আব্দুল জব্বার (৩৫) এবং মো. সুমন সেখ (৩০), ইসরাফিলের ছেলে মো. সোহাগ (২৮) ও আব্দুল খালেক (৩৫), মৃত মনছের আলীর ছেলে ইসরাফিল (৬০), মৃত শাহজান আলীর ছেলে মো. ফরহাদ (৫৫), ফরহাদের ছেলে মো. আরিফ (৩২) ও মো. ফারুক (৩৫)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিমগাছী বাজারের মৎস্য আড়ৎদার উক্ত মামলার ১নং স্বাক্ষী মো. আবু সাঈদ সেখের নিকট হতে ১ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবি ও মামলার বাদি মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. রেজাউল করিমকে নিমগাছী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিছন্নতা কর্মীপদে (এমএলএসএস) চাকরি দেয়ার জন্য নগদ ৮ লক্ষ গ্রহণ করে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপন।

চাকরির আশায় জমি ও গরু বিক্রি ছাড়াও সুদের উপর ওই টাকা সংগ্রহ করে দিলেও চাকরি মেলে প্রধান আসামী আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপনের ভাগিনা মো. আসলাম হোসেনের ভাগ্যে। পরে রেজাউল করিমের চাকরি না হওয়ার খবর ছড়িয়ে পরলে ১০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে আব্দুল মান্নান টাকা ফেরত চাইলে আসামী তিন মাস সময় নেয়।

পরে ৩ মাস গড়িয়ে ৭ মাস পেরিয়ে গেলে আবারও সময় নিলে ভুক্তভোগী মামলার বাদী স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ এমপিকে অবগত করে। তৎক্ষনাৎ এমপি চেয়ারম্যানকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে সে ২৫ মে ২০২০ইং তারিখে ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আবারও সময় নেয়। সেই নিদিষ্ট সময়ে পেরিয়ে গেলে ভুক্তভোগী অবশিষ্ট ৭ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ফেরত চাহিলে সে দেবেনা বলে সাফ জানিয়ে টাকা আর কখনও চাইবিনা বলে হুমকি দেয়।

এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী মো. আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে বার্তা বাজারকে জানান, মামলার পর আসামিরা আমাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করছে। এ অবস্থায় আমরা চরম আতংঙ্কের মধ্যে রয়েছি। এদিকে মামলার প্রধান আসামী সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপনের ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলার বাদীর নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাড. মো. লোকমান হাকিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্তা বাজারকে বলেন, রায়গঞ্জ থানা আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম বাদীর জবানন্দি গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট থানা ইনচার্জকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বার্তা বাজারকে জানান, তদন্তের আদেশটি এখনও পাইনি, পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবো। আদালত সূত্রে জানা যায় আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপনের বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও চেক জালিয়াতি, অর্থ আতসাৎ ও নারী গঠিত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এম এ মালেক/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর