কর্তব্যরত চিকিৎসক ডেপুটেশনে, সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী
ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সাতৈর ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা এখন বেহাল দশা। সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদী বাজার সংলগ্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সরেজমিন ঘুরে একটি ঘর জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্যসেবা।
এখানে একজন মেডিকেল অফিসারকে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি ডেপুটেশনে থাকায় স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা হওয়ায় এ ইউনিয়নের জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা নিতে হয় বোয়ালমারী উপজেলা সদরে আর না হয় ফরিদপুর জেলা সদরে। যেখানে ফরিদপুরের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার আর বোয়ালমারীর দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদী বাজার সংলগ্ন কাদিরদী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার পদে ডা. মহসিন ফরাজীকে ২০২০ সালের ৬ জুলাই নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ডা. মহসিন ফরাজী ডেপুটেশনে ফরিদপুরে জেলা সদরে চলে যান। ফলে সপ্তাহে ৩ দিন শুধুমাত্র একজন মিডওয়াইফ (ধাত্রী) ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
সপ্তাহের অন্য ৩ দিন পাশের ঘোষপুর ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কাদিরদী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পশ্চিম ও উত্তর পাশে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া সারা বছরই আশেপাশের বাড়ি ও কাঁচা বাজারের পানি, ময়লা ওই স্থানসমূহে জমা হয়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এর ফলে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সেই সাথে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্তব্যরতদের স্বাস্থ্যসেবীদের দায়িত্ব পালন করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট ও নাইট গার্ডও নেই। তাদের কাজও অন্যদের করতে হয়।
কাদিরদী গ্রামের বাসিন্দা নিশিকান্ত দাশ বার্তা বাজারকে বলেন, যেখানে সরকার তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অনেক চেষ্টা চালাচ্ছেন সেখানে আমরা এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠিকমত সেবা পাচ্ছি না। প্রায় এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঠিকমত ডাক্তার পাওয়া যায় না।
সাতৈর ইউনিয়নে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নুরুল ইসলাম বার্তা বাজারকে বলেন, সাতৈরের কাদিরদী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন একশো থেকে ১৫০ জন রোগী আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। লোকবলের অভাবে আমি আরো এক জায়গায় নিয়োজিত থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদুর রহমান বার্তা বাজারকে জানান, ওই চিকিৎসকের (ডা. মহসিন ফরাজী) ডেপুটেশন বাতিল চেয়ে আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের আরেকজন চিকিৎসকও এই মুহূর্তে ডেপুটেশনে আছেন।
ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মো. ছিদ্দীকুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন, এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ওই চিকিৎসকের ডেপুটেশন বাতিল চেয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন করলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/এ.আর