ফোনে গেম খেলতে বাবার বাঁধা, ১৬ বছরের ছেলের আত্মহত্যা

সিরাজগঞ্জে স্মার্ট ফোনে অতিরিক্ত গেম খেলতে নিষেধ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ায় হাত থেকে কেড়ে নেয়ায় স্কুল ছাত্র মোন্নাফ হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরের আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।

জেলার শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের হাসাকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোন্নাফ শাহজাদপুর পাইলট মডেল হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। সে ওই গ্রামের শাহীন রেজার ছেলে।

থানা সূত্রে জানা যায়, এ সংবাদ পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানার উপ-পরিদর্শক মো. শাহীন মাহমুদ সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

নিহত স্বজনেরা জানান, মোন্নাফের পিতা শাহীন রেজা পাঁচ বছর প্রবাসে থেকে করোনার জন্য দেশে চলে আসে। মোন্নাফ খুবই মেধাবী ছাত্র। করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সে সারাক্ষণ মোবাইলে গেম খেলতো। গেম খেলার আশক্তি যখন অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায় তখন মোন্নাফের বাবা মা এর কুফল বুঝতে শুরু করে। পরে গত সপ্তাহে শাহীন রেজা তার ছেলে মোন্নাফের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নেয়।

বুধবার (১০ মার্চ) মোন্নাফ আবারও কাউকে না জানিয়ে মোবাইল নিয়ে গেম খেলা শুরু করে। মোন্নাফের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে মোবাইলটি কেড়ে নেয় এবং গালাগাল করে। রাতে পরিবারের সাথে মোন্নাফ খাবার খেয়ে নিজ ঘরে গিয়ে শুয়ে পরে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মোন্নাফের মা ময়না খাতুন ছেলে মোন্নাফকে ডাকাডাকি করেও কোন সারা শব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। তার চিৎকারে বাড়ির মানুষজন এগিয়ে এসে জানালা (গ্রিল ছিলনা) দিয়ে ভেতরে ঢুকে ঘরের তীরের সাথে গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত দেহ নামায়। ধারণা করা হচ্ছে মোন্নাফ অভিমানে রাতের কোন এক সময় ঘরের তীরের সাথে ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ প্রসঙ্গে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, খবর পেয়ে সাব-ইন্সপেক্টর শাহীন মাহমুদ খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এম এ মালেক/বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর