আলাউদ্দিন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে: দাবি কাদের মির্জার

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত সিএনজিচালক আলাউদ্দিন (৩২) পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

বুধবার (১০ মার্চ) বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, গোলাগুলির ঘটনার পর শুনছি একজন লোক মারা গেছে। তিনি পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। ময়নাতদন্ত করলে সব ধরা পড়বে। এখন তারা (প্রতিপক্ষ বাদল গ্রুপ) দাবি করছে নিহত আলাউদ্দিন তাদের লোক।

এ সময় কাদের মির্জা প্রশ্ন করেন- এখানে (পৌর ভবনের পাশে) তাদের লোক আসবে কোথা থেকে?

তিনি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রতিপক্ষ গ্রুপের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, তার ভাগিনা মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু ও ফখরুল ইসলাম রাহাতের নাম উল্লেখ করে বলেন, ওদের একটা লাশের প্রয়োজন ছিল, তাই হয়েছে।

কাদের মির্জা বলেন, আমাকে টার্গেট করে বৃষ্টির মতো গুলি করেছে। আমার পাশে যে ছেলেটা থাকে সে গুলি খেয়ে পড়ে গেল। আমাকে শুইয়ে দিয়ে আমার উপরে কাইয়ুম মাস্টার নামে একজন শুয়েছিল। আমি শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম।

এখন কী করবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত আমি শান্ত আছি। আমাকে নেত্রী (শেখ হাসিনা) বলেছেন শান্ত থাকার জন্য। উনারা কী করে আমি দেখি। না হলে এর পরবর্তী পর্যায়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে আমি ব্যবস্থা নেব।

মামলা করবেন কিনা, জানতে চাইলে কাদের মির্জা বলেন, আমি মামলার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। পুলিশ আমার আগের মামলাও নেয়নি। তারা বলে আমার অভিযোগ নাকি উপরে চলে গেছে। আসলে এখানকার প্রশাসন সব বায়াস্ট হয়ে গেছে।

হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন, আমাদের ডাকা প্রতিবাদ সভায় হামলা চালিয়েছে মেয়র কাদের মির্জা বাহিনী। পরে রাতে আমাদের অনুপস্থিততে আবারো গুলিবর্ষণ করে আমার বাড়ির পাশের গরিব সিএনজিচালক আলাউদ্দিনকে হত্যা করেছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় আলাউদ্দিন নামের এক সিএনজিচালক নিহত হয়েছেন। নিহত আলাউদ্দিনকে নিজের সমর্থক বলে দাবি করেছেন মিজানুর রহমান বাদল।

সংঘর্ষে ওসি মীর জাহিদুল হক রনি ও ছয় পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। এদের মধ্যে জাকের হোসেন হৃদয় নামের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অপর ১২ জন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার সংঘর্ষে আহতরা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি (৫০), এসআই জাকির হোসেন (৪৮), এসআই নিজাম উদ্দিন (৫০), কনস্টেবল মো. আলাউদ্দিন (৩০), আবুল কালাম (২৬), খুরশিদ আলম (৩৯), উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে নবায়ন হোসেন (১৮), খান সাহেবের ছেলে আদনান শাহ (২১), আবদুস সাত্তারের ছেলে সাহাব উদ্দিন (২৭), গোলাম মাওলার ছেলে সেলিম (৩০), আবদুল হাই এর ছেলে রিপন (২৯), রায়হানের ছেলে দিপু (২০), দুলাল মিয়ার ছেলে সুমন (২৪), মো. হানিফের ছেলে শরীফ উল্যাহ টিপু (৩৫), আবদুল মালেকের ছেলে নুর ইসলাম মানিক (৩৮), চরএলাহী ইউনিয়নের ইমান হোসেনের ছেলে সালাউদ্দিন (১৮), চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রাজিব হোসেন রাজু (২৩), জহির আলমের ছেলে জনি (১৮), আবু তাহেরের ছেলে রফিক চৌধুরী (৩৫), ছায়েদল হকের ছেলে মো. জহির (২৬), খোকনের ছেলে শরীফ (১৬), শাহদাত হোসেনের ছেলে আল মাহদী (২৩), একরামুল হকের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৩), মৃত সেলিম উল্যাহ বাবলুর ছেলে মাহমুদের রহমান সোহাগ (২৭), মুছাপুর ইউনিয়নের সৈয়দ আহম্মদের ছেলে ওহিদ কামাল (২৮), জহির উদ্দিনের ছেলে পিনন চৌধুরী (২২), মৃত নুরুল হকের ছেলে জামাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর (৩৫), ওজি উল্যার ছেলে মো. আলাউদ্দিন উজ্জ্বল (৩৮), মৃত আমিন উল্যার ছেলে সিয়াম (২৭), মৃত আবু তাহেরের ছেলে আরিয়ান শিপন (২৩), ইলিয়াছের ছেলে আরাফাত (২১), সিরাজপুর ইউনিয়নের আবদুল মজিদের ছেলে শাহ আলম (৩৭), নুরুল আমিনের ছেলে রাসেল (২২), মো. ইউছুপের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৪৫), বসুরহাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মো. ফারুকের ছেলে জাকির হোসেন হৃদয় (২১), করালিয়ার শাহ আলমের ছেলে শাহদাত হোসেন (২৫), জাকির মোল্লার ছেলে রাকিবুল ইসলাম (২১), ৮নং ওয়ার্ডের মৃত আবদুর রশীদের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪২), চরহাজারী ইউনিয়নের মো. মোস্তফার ছেলে আলাউদ্দিন (৩২), আবদুর রবের ছেলে মাঈন উদ্দিন (৪০), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের মমিনুল হকের ছেলে রাজিব (২৮), কবিরহাট উপজেলার লামছি পাসাদ গ্রামের আবদুল হাইয়ের ছেলে রিপন (২৮)।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর