সিরাজগঞ্জে খড়ের দাম বেশী, লসে গো খামারি

সিরাজগঞ্জে গরুর অন্যতম খাদ্য খড়ের দাম বাড়ছে হু হু করে। লাগামহীন খড়ের বাজারে প্রতি মন খড় বিক্রি হচ্ছে ৬‘শ থেকে ৭‘শ টাকায়। এতে করে বিপাকে পড়েছে খামারি ও গৃহস্থরা। ইতোপূর্বে খড়ের বাজার এমন লাগামহীন হয়নি বলে জানিয়েছে কৃষকরা।

তবে খামারিরা বলছেন, খড়ের দাম এ বছর গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ। বিঘা প্রতি পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে খড়। যে খড়ের দাম গত বছর ছিলো বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা। এ বছর দ্বিগুণ মূল্য দিয়ে কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারিদের। অনেক আবার জমির মালিককে আগাম টাকাও দিয়ে রেখেছিলেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্র জানা গেছে, কুড়া-ভুসির পাশাপাশি ধানের খড় গরুর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য। কুড়া-ভুসির সঙ্গে খড় কেটে ভিজিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। গরুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য এই খাদ্যের বিকল্প নেই। তাই খামার অথবা ব্যক্তিগত গরু পালনকারীদের সারা বছরের জন্য খড়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছেই।

রায়গঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে গো-খামারি আব্দুল খালেক এর সাথে কথা বললে তিনি বার্তা বাজারকে জানান, আগে ধান মাড়াইয়ের জন্য কোনো যন্ত্র ছিল না। বর্তমানে ধান মাড়াইয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গো খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। কারণ মেশিনে ধান মাড়াই করলে অধিকাংশ খড় নষ্ট হয়ে যায়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনেকাংশেই এ জন্য দায়ী।

গো-খাদ্যের তীব্র সংকট ও দাম লাগামহীন হওয়ায় অনেক খামারি ও কৃষক গরু পালনের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১০ মার্চ ২০২১) শাহজাদপুর বিসিক বাস্ট্রেন্ড এলাকায় গেলে কথা হয় খড় কিনতে আসা উপজেলার নগরডালা গ্রামের খামারি মো. নূরল আলম আনসারির সাথে। তিনি বার্তা বাজারকে বলেন, আমার খামারে ৬০টি গরু আছে। বাজার থেকে গত মাসে ৬‘শ টাকা দরে প্রায় ২‘শ মন খড় কিনেছি। এতো দামে আর কতদিন খাওয়াবো।

বিসিক বাস্ট্রেন্ড এলাকার খড় ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন প্রামাণিক বার্তা বাজারকে বলেন, আমরা সাত জন মিলে নওগাঁ জেলার সাপাহার থেকে খড়ের পালা কিনে এনে বিক্রয় করি। প্রতি মন খড় কিনতে আমাদের অনুমানিক ৫‘শ টাকা খরচ হয়। আমরা তা ৬‘শ থেকে সাড় ৬‘শ টাকায় বিক্রি করি।

খড় ক্রেতা মোছা. বুলবুলি খাতুন বার্তা বাজারকে জানান, স্বামী ঢাকায় কাজ করে, গরু কিনে দিছে ৫ টা। নিজস্ব কৃষি জমি না থাকায় বাড়িতে খড় নেই। এখন গরুর জন্য চড়া দাম দিয়ে ১০ মন খড় কিনলাম।

এ প্রসঙ্গে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন, এ মৌসুমে তিন তিনবার বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে সবুজ ঘাস ও মজুদকৃত খড়। ফলে খড়ের দাম বেড়েছে। এতে কৃষক ও খামারিরা পড়েছে বিপাকে। তাই শুধু খড়ের ওপর নিভর্র না হয়ে উন্নত মানের ঘাস চাষ করলে গো-খাদ্যের সংকট অনেকটাই মেটানো যাবে।

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আখতারুজ্জামান ভূঁইয়া বার্তা বাজারকে বলেন, গো খাদ্য সংকট রোধে জেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে নেপিয়ার ঘাস আবাদ করা হয়েছে। এবং সেই ঘাস গুলো জেলার ৫৭ টা স্থায়ী বাজারে সকাল বিকেল বিক্রি করা হচ্ছে। খড় ছাড়াও দানাদার খাদ্যের দামও একটু চড়াও হয়েছে।

তবে এটা সাময়িক, আমরা প্রকল্পের মাধ্যমে রেল লাইন, রাস্তার ধার ও কৃষকের পতিত জমিতে ঘাস আবাদ করছি। এছাড়া দানাদার খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এম এ মালেক/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর