রংপুরে মাইগ্রেশনের দাবীতে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গড়ালো ৩২ দিনে

রংপুরের নর্দান প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেশনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। আন্দোলনের ৩২তম দিনে মহাসড়কে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১০ মার্চ) বেলা ১টা থেকে রংপুরের ব্যস্ততম এলাকা মেডিক্যাল মোড়ের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

টানা আড়াই ঘন্টা চলে সড়কে অবস্থান। এসময় রংপুর-দিনাজপুর-নিলফামারী-ঠাকুরগাও-পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন আটকে পড়ে, তৈরী হয় যানযট। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে নগরীর মানুষ।

আন্দোলনে নেপালী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নর্দান মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ন করার জন্য কোনো হাসপাতাল নেই, নেই শিক্ষক বিএমডিসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমোদন নেই হাসপাতালটিতে। এরপরেও পাঁচটি ব্যাচে আড়াইশ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করছেন।

কর্তৃপক্ষ বার বার আশ্বাস দেয়ার পরেও কোনো অনুমোদন আনতে পারেনি। বহিরাগত শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানোর পর, রাজধানীতে গিয়েও মানববন্ধন ও রংপুরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন করলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

নবম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বার্তা বাজারকে জানান, অন্য হাসপাতালের রোগী ও শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস করছে কর্তৃপক্ষ, হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এ সমস্যা নিরসনে মাইগ্রেশনের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

বুধবার শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধাসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেয়ার আহবান জানালে প্রায় আড়াই ঘন্টা পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় যান চলাচলা বন্ধ হয়ে থাকায় সড়কের চারদিকে ৫ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন আটকা পড়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রসিদ বার্তা বাজারকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। মাইগ্রেশেনের প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসনসহ অনুরোধ করলে সড়ক ছেড়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরে ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

রকি/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর