গভীর রাতে স্কুল ভবন বিক্রি করে দিলেন সহকারী শিক্ষক

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শানপুকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ভবন রাতের আঁধারে বিক্রি ক‌রে দি‌য়ে‌ছে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের উপরের টিনের চালা ও চারপাশ ওয়াল গাথা ভবন বিক্রি করেছে ঐ সহকারী শিক্ষক।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতের আঁধারে সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ ও তার লোকজন প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের পুরাতন ভবন শানপুকুড়িয়া গ্রামের মৃত মোবারকের ছেলে বাচ্চুর নিকট নাম মাত্র ১৪ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছেন। বাচ্চু তার লোকজন দিয়ে সারারাত বিদ্যালয়ের ভবনের ইট ও চালা ভেঙ্গে রাতারাতি বাড়িতে নিয়ে গিয়েছে।

এ ব্যাপারে শানপুকুড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলম বিশ্বাস বার্তা বাজারকে ব‌লেন, বিদ্যালয়ের ভবন বিক্রির বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ রাতারাতি এই ভবন বিক্রয় করেছে। হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমারখালী নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বার্তা বাজারকে জানান, করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমার সাথে আলোচনা বাদেই সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ এই পরিত্যক্ত ভবন বিক্রি করেছে। পরিত্যক্ত ভবন ক্রেতা শানপুকুড়িয়া এলাকার বাচ্চুর বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, টিন, পুরাতন ইট, সিমেন্টের খুটি, বাঁশসহ অন্যান্য সামগ্রী স্তুপ করা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাচ্চু বার্তা বাজারকে বলেন, সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ ও প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে আলোচনা করে আমি এই ভবন ১৪ হাজার টাকায় ক্রয় করি।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও চাঁপড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মনোয়ার হোসেন লালন বার্তা বাজারকে বলেন, এই ভবন বিক্রি করতে হলে ম্যানেজিং কমিটির রেজুরেলশন ও নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিক্রি করার কথা ছিল। অথচ সহকারী শিক্ষক হারুন আমাদের কে না জানিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে এই ভবন বিক্রয় করেছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বার্তা বাজারকে জানান, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। কুমারখালী শিক্ষা অফিসার ও কুমারখালী থানাকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানিয়েছি।

খবর পেয়ে কুমারখালী উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিনা খাতুন শানপুকুড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে দেখতে আসেন।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি অবগত হয়েছি। তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টুটুল/বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর