গোলাপগঞ্জে আ. লীগ নেতাদের তোলপাড়

প্রস্তাবিত ‘কমিটি’ নিয়েই বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগে। অনেক ত্যাগী নেতাদের বাদ দেয়া হয়েছে। আবার অনেক নতুন মুখকে নিয়ে আসা হয়েছে ফ্রন্টলাইনে। কেউ কেউ বলছেন- নতুনরা অনুপ্রবেশকারী। এতে করে ক্ষোভ-বিক্ষোভের অন্ত নেই গোলাপগঞ্জে। উপজেলা শহর ছাড়াও ইউনিয়নে ইউনিয়নে চলছে প্রতিবাদ।

এ নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে আওয়ামী লীগে। এই অবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. রফিক আহমদের ওপর ক্ষেপেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াদুদ এমরুল।

তিনি গতকালের একটি সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ছাড়াও যেখানে পাবেন সেখানেই জুতাপেটা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণায় গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগে তোলপাড় চলছে। আর তার এই ঘোষণা সংবলিত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে সভাপতি ও মো. রফিক আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে কয়েক মাস আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি।

এরপর নির্দেশ দেয়া হয় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার। কিন্তু সেটি না করায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ থেকে নির্দেশনা জারির পর ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটি জেলার কাছে পাঠান গোলাপগঞ্জের দু’নেতা। এদিকে প্রস্তাবিত কমিটি জেলা কমিটির কাছে পাঠানোর পরপরই এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় গোলাপগঞ্জে। নেতারা অভিযোগ করেন অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীকে বাদ দেয়া হয়েছে। অচেনা নতুন মুখদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগীরাও ক্ষুব্ধ।

গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগের সব বলয়ের ত্যাগী অনেক নেতাই বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এই অবস্থায় শুরু হয়েছে আন্দোলন। প্রস্তাবিত কমিটি বাতিল করে নতুন করে কমিটি ঘোষণার দাবিতে চলছে এই আন্দোলন। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিদিন প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। তেমনি একটি আয়োজন গতকাল করা হয়েছিল উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নে। স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গোলাপগঞ্জের পরিচিত নেতা এম ওয়াদুদ এমরুল।

বক্তৃতার সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিক আহমদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে এমরুল ঘোষণা দেন- রফিককে যেখানেই পাবেন সেখানে তাকে জুতাপেটা করা হবে। তার এই ঘোষণায় উপস্থিত অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এদিকে- সভার পর এমরুলের এই বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ প্রবীণ নেতা। তিনি সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে সিলেটে বহুল পরিচিত।

তাকে গালিগালাজ করা ও জুতাপেটা করার ঘোষণা রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না বলে জানান তারা। একজন পিতৃতুল্য মুরুব্বি নিয়ে এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না বলে জানান তারা। এ রকম অশালীন আচরণের জন্য এমরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন কেউ কেউ। এদিকে- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে গালিগালাজ ও জুতাপেটা করার ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগের অপর অংশ। বিকালে স্থানীয় আমুড়া এলাকায় ঘটনার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে।

এ সময় তারা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এমরুলকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতা রফিক আহমদের বাড়ি উপজেলার আমনিয়া গ্রামে আর এমরুলের বাড়ি সুন্দিশাইল গ্রামে। দু’জনের বাড়িও কাছাকাছি। ফলে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকাভিত্তিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে- সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এমরুলের এই বক্তব্যকে সমর্থন করতে পারেননি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেন- ‘প্রতিবাদের ভাষা এত নোংরা হতে পারে না। এটা বৃক্ষের ফলের পরিচয়।’ এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা এমরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

 

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর