মৃত্যুর ৯ বছর পর মিললো মুক্তিযুদ্ধের সনদ

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেড়িয়ে যাওয়ার পর প্রয়াত এন এস আই সদস্যের বাড়ীতে পাওয়া গেল তারই মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র। এমন ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাটে জেলার আদিতমারি উপজেলার খাতাপারা এলাকায়।

মৃত্যুর ৯ বছর পর পাওয়া গেছে প্রয়াত এন এস আই সদস্যে শাহজাহান আলী মিলনের মুক্তিযোদ্ধার সনদ। পরিবারের সদস্যরা এই এন এস আই সদস্যকে মরণোত্তর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, খাতাপারা এলাকায় বসবাস করছিলেন প্রয়াত এন এস আই সদস্য শাহজাহান আলী মিলন ও তার পরিবার। সেই বাড়ীর একটি পুরোনো আলমারির মধ্য থেকে পাওয়া গেছে ১৯৭২ সালে সাক্ষরিত পৃথক দুটি সনদ।

সনদে লেখা আছে:

“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রক্ষা বিভাগ, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র। নাম মোঃ শাহজাহান আলী মিলন। জন্ম তারিখ ২৭-১২-১৯৫৪ ইং। পিতার নাম মোঃ আবু তালেব প্রাঃ। গ্রামঃ ঝুরঝুরি, থানাঃ তারাশ, জেলাঃ পাবনা।

স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সৈনিক ৪নং ব্যাটালিয়ন ৪নং কোম্পানির অংশগ্রহণ করিয়া প্রান পন যুদ্ধ করিয়াছে অতএব আমি তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল কামনা করি।

ইতি ৪নং ব্যাটেলিয়ন, অধিনায়ক ৪নং কম্পানী। তাং-৫/৩/১৯৭২।

আরেকটি সনদে লেখা রয়েছে:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
নামঃ মোঃ শাহজাহান আলী মিলন, পিতাঃ আবু তালেব প্রাঃ, গ্রামঃ ঝুরঝুরি, থানাঃ তারাশ, জেলাঃ পাবনা অসহযোগ আন্দোলনের সময় উপরোক্ত ছেলে আমার সেচ্ছাসেবক বাহিনীতে যোগ দেয় এবং দেশের ও দশের জন্য প্রাণপণে যুদ্ধ করে।

প্রয়াত এই এন এস আই সদস্য জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলাধীন তাড়াশ উপজেলার ঝুরঝুরি গ্রামে। যুদ্ধকালীন সময় ছিলেন, নানার বাড়িতে। তার দুই মামাও বীরদর্পে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামে। জনশ্রুতি আছে, ১৯৭১সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় তার নানার বাড়িতে পাক হানাদার বাহিনী আগুন লাগিয়ে গোটা বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল।

শাহজাহান আলী মিলনের স্ত্রী বার্তা বাজারকে জানান, চাকরি জীবনে তিনি রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী, রাজিবপুরসহ রংপুর শহরেও দীর্ঘদিন সুনামের সাথে কাজ করেছিলেন। এন এস আই এ কাজ করার জন্য মাঝে মাঝেই খুঁজে পাওয়া যেত না তাকে। দেশের জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনের পর বীরদর্পে এনএসআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করার পরে তাঁর মৃত্যুর পর এখন পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা দাবি করি তাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হোক।

লালমনিরহাট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন বার্তা বাজারকে বলেন, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে খোঁজ করে ওই সনদ সঠিক কি না তা যাচাই বাছাই করে সেখানকার কমান্ড ব্যবস্থা নিতে পারবে।

বাদশা মিয়া/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর