কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ নামে প্রগতিশীল জোট গঠন নিয়ে শিক্ষকদের বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একই পরিষদের নামে শিক্ষকদের একাংশ কমিটি ঘোষণা করায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে অপর একটি অংশ।
গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মাঝে এই বিভেদের শুরু। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৭ ডিসেম্বর শিক্ষকদের একাংশ বঙ্গবন্ধু পরিষদের তৎকালীন কমিটিকে মেয়াদোত্তীর্ণ দাবি করে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মোকাদ্দেস উল ইসলামকে সদস্য সচিব করে নতুন করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেয়। পরে দুটি পক্ষই নিজেদেরকে বঙ্গবন্ধু পরিষদ দাবি করে আলাদা আলাদা নীল দলের প্যানেল দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।
নির্বাচন শেষে ৫ জানুয়ারি একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে সভাপতি এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির হুসেইনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে পূর্বের বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
পরবর্তীতে রবিবার (৭ মার্চ) নতুন বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়া অংশ হতে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দীকে সভাপতি ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের (দুলাল-জুলহাস) কার্যনির্বাহী পরিষদ-২০২১ এর কমিটি ঘোষণা করা হয়।
দুলাল-জুলহাস কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি ড. মোহা: হাবিবুর রহমান, তারিক হোসেন ও আসাদুজ্জামান শিকদার৷ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন হুমায়ুন কাইসার, নূর মোহাম্মদ রাজু। কোষাধ্যক্ষ পদে আছেন পার্থ চক্রবর্তী, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন মোহাম্মদ শফি উল্লাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে আছেন মো: ফয়জুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ মুর্শেদ রায়হান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ জনি আলম, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক খলিল আহাম্মদ।
এছাড়া কমিটিতে কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন, ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান, মো: রশিদুল ইসলাম শেখ, ড. মিহিল লাল ভৌমিক, মো: আবুল হায়াত, ড. মোহা: কাউছার আহমেদ পাটওয়ারী, মো: ফরহাদ হোসেন, সাথী রানী কুন্ডু, মু. আবু বকর সিদ্দিক (সোহেল), মুহাম্মদ মাহাবুব রহমান মানিক, মাহফুজুর রহমান।
তবে এই কমিটি গঠনকে অবৈধ উল্লেখ করে প্রতিবাদ লিপি দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে, মিজানুর-নাসির নেতৃত্বাধীন বঙ্গবন্ধু পরিষদ। প্রতিবাদ লিপিতে তারা উল্লেখ করে, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে পাকাপোক্ত করতে এ ধরনের হীন এবং নিন্দনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ অবিলম্বে অবৈধভাবে ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছে।’ প্রতিবাদ লিপিতে তারা এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এদিকে, নতুন কমিটির ব্যাপারে দুলাল চন্দ্র নন্দী বার্তা বাজারকে বলেন, আমাদের যে আহবায়ক কমিটি ছিলো, সে কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করেছে৷ এই কমিটি ভ্যালিড, এটা ছাড়া আর কোনো বঙ্গবন্ধু পরিষদ আছে বলে আমরা মনে করি না।
তবে বঙ্গবন্ধু পরিষদ (মিজান-নাসির) এর সভাপতি ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন, প্রথমত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কখনো গ্যাপ যায়নি। ২০১০ সাল থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কন্টিনিউ হচ্ছে এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকেই শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হচ্ছে।
বার্তাবাজার/হৃ.আর