“বঙ্গবন্ধু জীবন দিয়ে দেশটাকে রক্ষা করেছে, তার স্বপ্ন আজ পুরন হয়েছে”

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে পাকিস্তানীদের শাসন-শোষনের বিবরণ তুলে ধরে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছিলাম। পরবর্তিতে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ভাষণে সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহনে দেশগড়ার দিক নির্দেশনা দেন।

শুক্রবার (৫ মার্চ)বিকেল ৪ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান পরিষদের উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে ক্ষমতাসীন সরকারগুলো বারবার ধর্মীয় উস্কানী দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতিকে বিকৃত করে অপপ্রচার চালিয়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধু সব সময় বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টাকেও রুদ্ধ করতেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। ৭৫’র পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরে সংবিধানের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব প্রদান করে বৈষম্যমুক্ত দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।

পলক বলেন, সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। দেশের মানুষের মাথাপিছু জাতীয় আয় ৫০০ ডলার থেকে বেড়ে দুই হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। করোনাকালে অনেক উন্নত দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়লেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি সফলতার সাথে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সময়মত টিকা আমদানীর ফলে দেশে ইতোমধ্যে ৪০ লাখ মানুষ করোনার টিকা গ্রহন করতে পেরেছেন। উন্নয়নের পথ পরিক্রমায় আমরা উন্নয়নশীল দেশের মাইলফলক স্পর্শ করেছি। ২০৩১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে হবে উন্নত দেশ-যখন দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হবে অন্তত সাড়ে বারোহাজার ডলার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপায়ন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনের পদক্ষেপ গ্রহন করেন। এর সুফল হিসেবে বর্তমানে ১৭ কোটি মানুষের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে, ১১ কোটি মানুষের ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে।

করোনাকালে দেশের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পড়াশুনা করছে, ই-ফাইল কার্যক্রম চালুর ফলে সকল অফিসে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চলেছে। ভার্চুয়াল আদালতে বিচারিক কাজ চলেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কার্যক্রম দেশের মানুষের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করছে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক শীতল কুমার সরকারের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ সদস্য মানসী ভট্রাচার্জ এর পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিংড়া পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মো: জান্নাতুল ফেরদৌস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির সভাপতি চিত্ররন্জন দাস, সাধারন সম্পাদক খগেন্দ্র নাথ রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুর রহমান শেখ, পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপাল বিহারী দাস, সাধারন সম্পাদক মোহন চন্দ্র প্রমূখ।

রবিন খান/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর