ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুতে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি নিয়ে গোলাম রাব্বানীর ক্ষোভ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুখ হোসেন মিরু ২ মার্চ সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে পরদিন হাসপাতালে মারা যান। চিকিৎসকরা বলেছেন তার মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে।

মিরুর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আলোচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি মিরুর মৃত্যুতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সীমাহিন দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন।

শুক্রবার (৫ মার্চ) সকাল ৭টা ২০ মিনিটে গোলাম রাব্বানীর ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগ নেতা মিরুর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ করেন। তার ক্ষোভ থেকে বাদ যায়নি দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বা সরকারি হাসপাতালের পরিচালকও।

বার্তা বাজারের পাঠকদের জন্য গোলাম রাব্বানীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু উল্লেখ করা হল-

২ মার্চ রাত আনুমানিক রাত ১২.৩০ ঘটিকায় সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয় মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিংগাইর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি ফারুখ হোসেন মিরু।
তাকে উদ্ধার করে ৩০ মিনিটের মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, কিন্তু সেখানে কোন চিকিৎসা পায়নি ছেলেটা, এমনকি ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার নূন্যতম প্রাথমিক চিকিৎসার দেয়ার ব্যবস্থাও নেই সেখানে!
সেখান থেকে রাত ২.১৫ ঘটিকায় মিরুকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে ইমার্জেন্সিতে কোন ডাক্তার পাওয়া যায়নি, হাসপাতালের একজন (সম্ভবত কমিশন নেয়া দালাল) মিরুর স্বজনদের ভালো চিকিৎসার জন্য ক্রিসেন্ট হাসপাতালে যেতে বলেন, সেখানে এক্স-রে ও আরও কিছু টেস্ট করানোর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বললেন, সেখানে চিকিৎসা সম্ভব না!
অগত্যা শেষ ভরসা হিসেবে রাত ৩.৩০ ঘটিকায় নেয়া হলো ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে। সেখানেও চিকিৎসা মেলেনি হতভাগ্য মিরুর! ওরা ফের পাঠিয়ে দেয় সেই জাতীয় অর্থোপেডিক মানে পঙ্গু হাসপাতালে।

ভোর আনুমানিক ৪.৩০ ঘটিকায় সেখানে ভর্তির সুযোগ মেলে। এরপর স্যালাইন দিয়ে ফেলে রাখা হয় মিরুর নিথর শরীরটা। শরীর জুড়ে ৫২ কোপের গভীর ক্ষত নিয়ে মিরু অপেক্ষা করতে থাকে অপারেশনের জন্য, তখনও ছেলেটার জ্ঞান ছিলো! অপেক্ষার পালা যেন শেষ হয়না, ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণে শরীর নিস্তেজ হতে থাকে…

অতঃপর, বেলা ১২.০০ ঘটিকায় অপারেশন থিয়েটারে সিরিয়াল মেলে মিরুর, আরও ৩/৪ জনের সাথে অপারেশন চলে, ফের একসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। মৃত্যুর কারণ, শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ!!

আহত হবার পর দীর্ঘ ১০-১১ ঘন্টা আঘাতপ্রাপ্ত দুর্বল শরীরটা নিয়ে চিকিৎসার জন্য হন্যে হয়ে এখানে সেখানে ছুটেছে অসহায় স্বজনরা। আমি স্পষ্ট বলছি, সময়মত চিকিৎসার অভাবে, চরম গাফলতি আর অবহেলায় মারা গেছে ছাত্রলীগের মিরু!

হামলাকারীদের কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে, বাকিরাও দ্রুত আইনের আওতায় আসবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা, চরম অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি, দায়িত্বহীনতা আর সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের অবসান ঘটবে কবে?
গত দুদিন যাবত প্রশ্নটা মাথায় সারাক্ষণ ঘুরপাক খাচ্ছে, কিছুতেই পরিত্রাণ দিচ্ছে নাহ!

আচ্ছা আমাদের মিরুর বদলে যদি মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বা কোন সরকারি হাসপাতালের পরিচালক মহোদয়ের ছেলে এমন গুরুতর আহত হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি হতো, তাদেরও কি মৃত্যুর প্রহর গুনে গুনে অপারেশনের জন্য ৮ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো??

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর