যেকোনো মুহূর্তে ক্ষমতা পরিবর্তন হয়ে যাবে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘পরিবর্তনের ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করেছে। মসনদ ধুলোতে লুটোপুটি খেতে থাকবে। মানুষ এখন রাস্তায় নামতে শুরু করেছে। পুলিশ দিয়ে বিক্ষোভ-প্রতিরোধ দমানো যাবে না।’
বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম যেভাবে বাড়ছে তা চারিদিকে দৃশ্যমান। সেই কারণে সংবিধানে স্বীকৃত সভা-সমাবেশের ওপর একের পর এক সিরিজ আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী। হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে বিএনপিসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল তথা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই আশঙ্কা করছে পুলিশি এই হানার মধ্যে পূর্বের ন্যায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গুম ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার মতো কোনো ঘটনা হতে পারে। কারণ, নির্দয় জুলুম ও আওয়ামী লীগ এক আত্মায় গাঁথা। আওয়ামী লীগ কখনোই গণতন্ত্রের পক্ষে স্বাস্থ্যকর হয়নি।’
হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারকারীরা সহজেই দেশ ছাড়তে পারে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘অথচ মানুষ এসবের সমালোচনা করলেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। নিপীড়ন আর হুংকারের স্বরে এখন দেশ শাসন চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার মনে করছে, যারা সমালোচনা করে তারা প্রত্যেকেই অপরাধী, সুতরাং কারাগার এবং মৃত্যুই তাদের একমাত্র প্রাপ্য। এই কর্মসূচি নব্য বাকশালী সরকারের বাস্তবায়নের লক্ষ্য। সেজন্যই গণতন্ত্রকে অনুপস্থিত করে বাকশালের মৃতদেহকে ঘাড়ে করে বয়ে বেড়াচ্ছে।’
নেতাকর্মীদের আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নেতাকর্মীদের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে গ্রেফতারের হিড়িক শুরু করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জনের অধিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এমনকি সভাস্থলে উপস্থিত বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও পুলিশ অসদাচরণ করে।’
বার্তাবাজার/ভি.এস