খেলায় শৈশবে ফিরে গেলেন গ্রামের চল্লিশোর্ধ্ব

প্রতিযোগীদের দুরন্তপনায় চল্লিশোর্ধ্ব বয়স্কদের প্রতিযোগিতায় বুধবার (৩ মার্চ) বিকেলে মুখরিত হয়ে উঠেছিল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা এইচ এস কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ। ‘মাদক ছেড়ে খেলতে চলো, খেলায় বাড়ায় মনোবল’ এই স্লোগানে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া পুরনো ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয়।

খেলার মধ্যে ছিল, হাড়িভাঙ্গা, চোখ বেধে হাঁস ধরা, বস্তাবন্দি, তৈলাক্ত কলাগাছে উঠা। ধিঁরে সাইকেল চালানোসহ আরো অনেক। এ খেলা দেখতে আসা বিভিন্ন দর্শনার্থীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। লুঙ্গিতে দঁড়ি বাঁধা, চোখ বাঁধা বয়স্ক মানুষগুলো যেন ফিরে গেছেন শৈশবে। একটি নির্দিষ্ট গোল চক্করের মধ্যে একটি হাঁস ধরতে চোখ বাঁধা বয়স্ক তরুণদের চেষ্টা।

চারদিকে শত শত শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ ও তরুণদের করতালিতে মুখরিত। অবশেষ হাঁসটি ধরলেন গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব সালামত আলী। বস্তা দৌঁড় আর ময়দার মধ্যে গুপ্তধন খুঁজে বের করতে প্রচণ্ড ঘাম ঝরাতে হয়েছে প্রতিযোগীদের। সব শেষে সবাইকে তাক লাগিয়ে প্রতিযোগিতায় জিতে নেন গ্রামের নাজমুল হোসেন ও গুপ্তধন খুঁজে পান সাইফুল ইসলাম।

শুধু তারাই নয়, শিশু কিশোররাও মেতে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলায়। কলা গাছে উঠে পুরস্কার জিতে নেয় শিশু ইব্রাহিম হোসেন।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউপির হাড়াভাঙ্গা পশ্চিমপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মিজান ফার্নিচার ও হার্ডওয়্যারের মালিক মিজানুর রহমান বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ এ খেলার আয়োজন করেন।

হাড়াভাঙ্গা এইচ এস কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে এ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন, কাজীপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, এইসএসকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান, সাহেবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশীদ, মেহেরপুর জেলা পরিষদের সদস্য মুনছুর আলী, স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম মহন, সাবেক ইউপি সদস্য মহিবুল ইসলাম, এইসএসকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরজুল্লাহ প্রমুখ।

মাসুদ রানা/বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর