শিমুলিয়া ইউনিয়নে ইজিপিপি প্রকল্পে মানা হয়নি সরকারি বিধি

ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়া ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) এর প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পে মানা হয়নি সরকারি বিধি। সরেজমিন শিমুলিয়া ইউনিয়নে ২০২০-২১ইং অর্থবছরে বরাদ্দকৃত মোট ছয়টি প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে চারটি প্রকল্পে নানা অনিয়মের বিষয় জানা যায়।

উক্ত অর্থবছরে শিমুলিয়া ইউনিয়নে মোট ছয়টি রাস্তায় মাটি দ্বারা উন্নয়নের কাজে মোট ৪১ লক্ষ আটষট্টি হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। এই কাজগুলো মোট ৪০ দিনে দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে সর্বমোট ৫২১ জন শ্রমিকের কাজ শেষ করার কথা।

ভাটিয়াকান্দি চেরুর বাড়ির রাস্তা হতে বাউনিয়া তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়নের কাজটি ৬৫ জানা ন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে মোট ৪০ দিনে করার কথা থাকলেও সম্পূর্ণ রাস্তাটি ভেকু (খনন যন্ত্র) ব্যবহার করে করা হয়েছে। ভিডিও বক্তব্যে এ বিষয়টি জানিয়েছেন এই রাস্তা সংলগ্ন স্থানীয় দুই ব্যক্তি। তারা জানান, সম্পূর্ণ রাস্তাটি ভেকু ব্যবহার করে মাটি কাটার পরে দুই একজন শ্রমিক দিয়ে সমান করার কাজ করানো হয়। এই রাস্তার জন্য মোট বরাদ্দ ছিলো ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।

নাল্লাপোল্লা নাছির মোল্লার রাইসমিলের রাস্তা হতে ছনটেকি কবরস্থান হয়ে ছনটেকি স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়নের জন্য ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ আসে। এখানে মোট ১০৫ জন হতদরিদ্র শ্রমিক ৪০ দিনে কাজ শেষ করার কথা। কিন্ত এখানেও নাছির মোল্লার রাইস মিল থেকে শুরু করে কিছু অংশ শ্রমিক দিয়ে করালেও রাস্তার বাকি অংশ ভেকু যন্ত্র ব্যবহার করেই কাজ শেষ করা হয়। টানা ৪০ দিন ১০৫ জন শ্রমিক দিয়ে এই রাস্তার কাজ করানো হয়নি বলে ভিডিও বক্তব্যে জানিয়েছেন কয়েকজন কৃষক। এসময় তারা জানান, ভেকু দিয়ে তাদের জমির পাশ থেকে রাস্তার জন্য মাটি কেটে নেয়াতে তাদের জমির পাড় ভেঙ্গে যাওয়া সহ ওই অংশটুকু পুনরায় মাটি ভরাট করতে তাদের বেগ পেতে হয়। ইচ্ছা না থাকলেও রাস্তার জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেয়ায় তাদের জমির ক্ষতি তাদেরকে বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হচ্ছে। এজন্য ভেকু ব্যবহার না করে সরকারি বিধি মেনে কোদাল দিয়ে মাটি কাটলে তারা অন্তত ক্ষতিগ্রস্ত হতেন না।

শ্যামেরটেকি হাসান খানের দোকান হতে রাজ্জাকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়নে মোট ৬ লক্ষ টাকা সরকারি বরাদ্দ আসে, যেখানে মোট ৭৫ জন হতদরিদ্র শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে মোট ৪০ দিনে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু সরেজমিন প্রকল্প স্থানে গিয়ে দেখা যায়, হাসান খানের দোকান হতে রাজ্জাকের বাড়ি পর্যন্ত সম্পূর্ণ নির্মাণ না করে পথের মাঝে মিজান মাস্টারের বাড়ির সামনে এক বাঁশঝাড়ের ভিতর গিয়ে শেষ হয়েছে। এখানে রাস্তা সংলগ্ন বাড়ির মালিকদের কাছে জানতে চাইলে ভিডিও বক্তব্যে তারা জানান, ৭৫ জন শ্রমিক প্রতিদিন রাস্তার কাজ করে নাই, অনেক কম শ্রমিক কাজ করেছে এবং পুরা রাস্তার কাজ শেষও হয়নি। পরে চেয়ারম্যান নিজে বাকি অংশটুকু করবেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে এই কাজের তত্বাবধানকারী শিমুলিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ এর মহিলা ইউপি সদস্য মমতাজ বেগম জানান, স্থানীয়দের বাঁধার কারণে মিজান মাস্টারের বাড়ির পর আর কাজ করতে পারি নাই।

কাছৈর উত্তরপাড়া মুজিবরের বাড়ি হতে বাগবাড়ি ফিরোজের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়নের জন্য মোট ৮ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ আসে, এই প্রকল্পটি মোট ১০৬ জন শ্রমিকের দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে মোট ৪০ দিনে শেষ করার কথা। সরেজমিন দেখা গেছে, মুজিবরের বাড়ি হতে বেশ কিছু দূর রাস্তা গ্রাম্য পায়েচলা পথ যেখানে নতুন করে কোনো মাটি ফেলার চিহ্ন দেখা যায়নি। এরপর থেকে অবশ্য রাস্তায় নতুন করে মাটি ফেলা হয়েছে। এছাড়া এই রাস্তার বেশ কিছু অংশ ভেকু যন্ত্র ব্যবহার করে করা হয়েছে এই মর্মে ভিডিও বক্তব্যে জানিয়েছেন রাস্তার ওই অংশে বসবাসকারী বাড়ির মালিকেরা।

এব্যাপারে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ বলেন, প্রকল্পের সবটুকু কাজই নিয়ম মেনে করা হয়েছে, তবে কিছু কিছু জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আমি নিজেই ভেকু ব্যবহার করে কাজ করিয়েছি।

তবে এই সরকারি বিধি না মানার বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরামুল হক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এব্যাপারে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর