আজ রবিবার সকাল ৬:১৬, ২০শে আগস্ট, ২০১৭ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলক্বদ, ১৪৩৮ হিজরী

ঘরে ঘরে চিকুনগুনিয়া,নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা নিন

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : জুলাই ৫, ২০১৭ , ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : সম্পাদকীয়
পোস্টটি শেয়ার করুন

সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া। রাজধানী ঢাকায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। ঠিক সময়ে এ ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি হিসাবে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে, যদিও বাস্তবে এই সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীর ৫০টি এলাকায় জরিপ করে দেখতে পেয়েছে, প্রায় সব এলাকায়ই চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ রয়েছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের চেম্বারে প্রতিদিন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে। এই রোগ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই, চিকিৎসক ও সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কারণ কোনো বাড়িতে একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও তা সংক্রমিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র জানিয়েছেন, আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে আসবে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সিটি করপোরেশনের মশক নিধন অভিযান আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ডেঙ্গুর মতোই এডিস মশা থেকে চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস মানুষের শরীরে আসে। আক্রান্ত মানুষকে কামড় দিলে জীবাণু মশার দেহে সংক্রমিত হয়, মশা বাহকে পরিণত হয়। এই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে তার দেহেও ভাইরাস সংক্রমিত হয়। তাই মশা নিধনই চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। বলা হয়ে থাকে, ‘প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। ’ সেদিক থেকে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের প্রধান দায়িত্ব পালনের কথা দুই সিটি করপোরেশনের। নাগরিকদেরও সচেতন হওয়া দরকার, প্রতিরোধে এগিয়ে আসা উচিত। বাড়িতে ফুলের টব, পরিত্যক্ত কৌটা কিংবা গাড়ির টায়ারে যেন পানি না জমে থাকে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের দুই সিটি করপোরেশন কি মশক নিধনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পেরেছে বা নিয়েছে? মানুষ বছরজুড়েই মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ থাকে। রাজধানীর এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে বছরের পর বছর ফগার মেশিনসহ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দেখা মেলে না। অথচ এই খাতে উভয় সিটি করপোরেশনের অর্থ বরাদ্দ আছে। সংকট থাকলেও লোকবল একেবারে নেই, তা নয়। তাহলে মশক নিধনের অর্থ যায় কোথায়? কাগজে-কলমে কয়েক বছর ধরে দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধনে ক্রাশ প্রগ্রামের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রমাণ নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দেরিতে হলেও সারা দেশে চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু হয়েছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই এ রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে আশা করি।