বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে। এতে লাভবান হচ্ছে শেরপুরের কৃষকরা।
উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আয়রা, বেলতা, উচরং, মামুরশাহী, বিশালপুর ইউনিয়নের পানিসারা, কুসুম্বী ইউনিয়নের দারুগ্রাম, খুরতা, আমইন, দক্ষিন আমইন, কেল্লা, পোশী, গোন্দইল, বেলঘরিয়া, গাড়ীদহ, জামুর, সুঘাট ইউনিয়নের চক কল্যানী, জয়লা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আলু চাষে সফল হয়ে আনন্দিত কৃষক। এইসব গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন আলু তোলার কর্মযজ্ঞ চলছে। অনেক চাষী ইতিমধ্যেই আলু তুলে ফেলেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার আলুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো ২ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমি। কিন্তু আলুর চাষ হয়েছে ২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। লক্ষমাত্রার চেয়ে ২৫ হেক্টর জমিতে বেশি আলু চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শে অধিক ফলনশীল জাতের কাটিনা ডায়মন্ড, উফসি ও স্থানীয় জাতের আলু চাষ করেছে। যদিও উপজেলাতে এখনো পুরোদমে জমি থেকে আলু তোলা শুরু হয়নি। তবুও যে কৃষকরা আগাম জাতের আলু চাষ করেছিলেন তারা কিছু কিছু আলু তোলা শুরু করেছেন। আর কয়েকদিন পর থেকে পুরো দমে আলু তোলা শুরু হবে।
তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম থাকায় কৃষকরা প্রতি হেক্টর জমিতে ১৫ থেকে ২০টন আলুর ফলন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে বাজারে আলুর চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় আলু চাষীরা আলু বিক্রির লাভ থেকে কয়েক দফার বন্যায় আমন ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন আক্তার বলেন, শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কৃষকরা আলু উৎপাদন করে থাকে। উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কৃষক নদীর তীরে তাদের জমিতে আলু চাষে সফল হয়েছে।
আলুর ফলন কৃষকদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক ফুটিয়ে তুলেছে। শুধু নদীর তীরবর্তি নয়, উপজেলার কুসুম্বী ও বিশালপুর ইউনিয়নেও ব্যাপক আলু চাষ করেছে কৃষকরা। চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছে। আশা করি আলু বিক্রি করে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন।
রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/পি