আনোয়ারায় ২০ হেক্টর জমিতে ১৫ কৃষকের সূর্যমুখী ফুলের চাষ

এক সময় যে জমিতে চাষাবাদ হতো না, সে সব জমি এখন শীতকালীন সবজিতে সবুজ হয়ে উঠেছে। যেখানে ছিল ধানক্ষেত সেখানে এখন হাসছে সূর্যমুখী ফুলে। মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হিসাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় দ্বিতীয় বারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষকেরা।

আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বেশ কয়েকজন কৃষক। তাদের স্বপ্ন, সূর্যমুখীতে মৌচাক বসিয়ে মধু আহরণ করবেন। এ বছর আনোয়ারায় ২০ হেক্টর জমিতে ১৫ জন কৃষক সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে সহজে উন্নত মানের তেল ও খৈল উৎপাদন হয়। পাশাপাশি পুষ্টিকর সবজি হিসেবেও সূর্যমুখী জনপ্রিয়। তাছাড়া এই ফুলের মাধ্যমে মৌচাক বসিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন করা সম্ভব। সেই সাথে জ্বালানির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা আছে। সূর্যমুখী বীজ রোপণের ৯০-১০৫ দিনের মধ্যে কৃষকেরা ফুল থেকে বীজ ঘরে তুলতে পারেন। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ পাওয়া যায়। বিঘাপ্রতি কৃষক ১০-১১ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করতে পারেন। লাভজনক হওয়ায় এই ফুল চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

সূর্যমুখীর প্রতিকেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তেল উপাদন সম্ভব। প্রতি শতক জমিতে ৮ কেজি বীজ উৎপাদন হয়। এতে তেল উপাদন হবে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি শতক জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। স্বাস্থ্য রক্ষা ও রোগ জীবাণু প্রতিরোধে এই ফুলের উৎপাদিত তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ধান উৎপাদনে সেচ, নিড়ানি, বীজ, সার, কীটনাশকসহ উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কৃষকেরা তেমন বাজার মূল্য পায় না। অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সেচের অভাবে প্রত্যাশিত ফলনও হয় না। এই কারণে বোরো চাষের বিকল্প হিসেবে শীতকালীন সবজি চাষে অধিকাংশ কৃষকের আগ্রহ বেশি। এ বছর নতুন চমক হিসাবে প্রথমবারের মতো যোগ হলো সূর্যমুখী ফুলের চাষ। ধানের চেয়ে এই ফুল চাষের খরচ তিন গুণ কম এবং লাভজনক। লোনাপানি যুক্ত জমিতে ধান ও অন্যান্য সবজি চাষ করা সম্ভব না হলেও সূর্যমুখী চাষে তা সহায়ক।

শোলকাটার কৃষক মো, মহিউদ্দীন জানান, খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মরিচ, আলু, বেগুন, সূর্য্যমুখী চাষে প্রয়োজনীয় সেচ দেওয়া সম্ভব হচেছ না। যার ফলে ফসলের ফলন নিয়ে বড় দু:চিন্তায় পড়েছি। তিনি আরো বলেন একই সাথে ব্যুরো চাষের জমিতেও সেচ কাজ ব্যাহত হচেছ, ফসলের জমি শুকিয়ে যাচেছ।

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আনোয়ারা কৃষি অফিসের অধীনে কৃষকদের আত্মর্নিভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সারা বছর উঁচু-নিচু জমিতে কীভাবে বিষমুক্ত সবজি, ফলমূল ও চাষাবাদ করবে সে বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রণোদনা দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর সূর্যমুখী চাষে কৃষকের আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে। এ বছর আনোয়ারার ১৫ জন কৃষক ২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন। এ বছর কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নত মানের বারি-৩ জাতের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। একটু খাট আকৃতির গাছ হলেও এ বীজ থেকে ভালো ফলন হয়। আশা করছি, এবার প্রতি কেজি বীজে ৯০ থেকে ১০০ টাকা বাজারমূল্য পাবেন কৃষকেরা। বীজ বিক্রিতে উপজেলা কৃষি অফিস সহায়তা করবে।

সুমন শাহ/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর