স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রেস থেকে মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জালিয়াতি চক্রের মোট ১৪ জনের ৯৯ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৩ টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রের হোতা জসিম উদ্দিন ভুইয়া মুন্নু, তাঁর খালাতো ভাই স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রেসকর্মী আব্দুস সালাম খানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়েছে। রবিবার(২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মেডিকেলে ভর্তি জালিয়াতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির লেনদেন ও রূপান্তর হয়েছে। মামলায় জসিম, সালাম সিন্ডিকেটে জড়িত দুজন চিকিৎসক, কোচিং সেন্টারের শিক্ষকসহ মেডিকেলের শিক্ষার্থীদেরও আসামি করা হয়েছে।
ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, মানি লন্ডারিং আইনে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, জসিম সিন্ডিকেট তৈরি করে ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। তাঁর ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়। বাংকে ২১ কোটি ২৭ লাখ পাঁচ হাজার টাকা জমা এবং ২১ কোটি ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন জসিম।
সিআইডি সূত্র জানায়, এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে হোতা জসিম উদ্দিন ভুইয়া মুন্নু ২০১১, ২০১৫ ও ২০২০ সালে মোট তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর খালাতো ভাই প্রেসের মেশিনম্যান আব্দুস সালাম খানের সহায়তায় ২০০৬ সাল থেকেই ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কাজ করছিলেন তিনি।
২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস তদন্তের সূত্রে মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য পায় সিআইডি। গত বছরের ২০ জুলাই মিরপুর থেকে চক্রের হোতা জসিমসহ ৫ জন এবং পরবর্তী সময়ে সালামসহ আরো ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে মাত্র ৫ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।