আঙুলের ছাপে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রযুক্তি আনলো র‍্যাব

অপরাধী, সন্দেহভাজন কিংবা বেওয়ারিশ লাশের আঙুলের ছাপ স্ক্যান করে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে একটি ডিভাইসে আঙুলের ছাপ দেয়ার সাথে সাথেই অনলাইনে সংযুক্ত সেই ডিভাইসের স্ক্রিনে পরিচয় নিশ্চিতে ৬ ধরনের তথ্যের অপশন আসবে। সেগুলোতে ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। যেকোনো অপ্রাধীকে চিহ্নিত করা যাবে খুব সহজেই। র‍্যাবের টহল দলের কাছে এই প্রযুক্তি থাকবে।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনলাইন আইডেনটিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ওআইভিএস) প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কাউকে শনাক্ত করা যাবে। এতে সহজেই পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে। শুধু অপরাধী নয়, সাধারণের পরিচয়ও এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে।’

জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, ‘অপরাধীরা তথ্য গোপন করে থাকে। এটি ফরেনসিক পরীক্ষার সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফলে সব ধরনের তথ্য সহজেই হাতের নাগালে পাওয়া যাবে। অপরাধীরা অপরাধ করতে পারবে তবে লুকিয়ে রাখতে পারবে না। এর মাধ্যমে বেওয়ারিশ মরদেহের পরিচয় সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। ওআরভিএস হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম আইনসঙ্গত ব্যবহার।’

ওআইভিএসের সার্ভার সাপোর্ট করলে এটি পুলিশ বাহিনীর জন্য ব্যবহার করতে চান বলে অনুষ্ঠানে জানান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

র‍্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ওআইভিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিতের পাশাপাশি আইন-আদালতের কাজের প্রক্রিয়া সহজ হবে। এটি অপরাধ দমনে সফলভাবে ভূমিকা রাখবে।’

ওআইভিএস-এর কাজের প্রক্রিয়া বর্ণনা করে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বলেন, ‘এই ডিভাইসে কারো আঙ্গুলের ছাপ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিভিন্ন সার্ভারে কানেক্ট হয়ে যাবে। এখানে এনআইডি, পাসপোর্ট, জেল (কখনো জেল খেটেছেন কি-না), অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্স তথ্য ছাড়াও রোহিঙ্গা কি-না তাও জানা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের র্যাবের সব টহল দলের সঙ্গে এ ডিভাইস দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রযুক্তির সফটওয়্যার বাংলাদেশে তৈরি তবে শুধুমাত্র ডিভিইসটি দেশের বাইরে থেকে আনা হয়েছে। খরচও সাশ্রয়ী।’

ট্রায়ালের সময় কয়েকজন মৃত ব্যক্তির পরিচয় এই ডিভাইসের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

এ সময় র্যাবের শহীদ সদস্যদের আত্মত্যাগের স্মরণে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী সাহসে মানুষের পাশে’ নামে একটি টিভিসি (বিজ্ঞাপন চিত্র) প্রকাশ করা হয়। এটি রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

র‍্যাবের টিভিসি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকের ধারণা ক্রিমিনালগুলোকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে…তারা তাদের সুরক্ষার জন্য সবকিছু সঙ্গে নিয়ে চলে। সেসব জায়গায় যখন নিরাপত্তা বাহিনী চ্যালেঞ্জ করলে তারা ওপেন ফায়ার করে। অনেকেই এখানে পা হারিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন এসব ঘটেছে অপারেশনের জন্য।’

এ পর্যন্ত ২৮ জন র‍্যাব সদস্য নিহত এবং ৫০০-এর বেশি সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এক ধরনের প্রোপাগান্ডা আছে বাংলাদেশে যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে কেবলমাত্র ক্রিমিনালই নিহত হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হয় না। এই যে ফলস মিথ তা ভাঙার ক্ষেত্রে এই টিভিসি কাজে লাগবে।’

বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর