নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্যে ‘আগুন’, ভোগান্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষ

রাজধানীর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার মূল্য গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। আগের সপ্তাহের সাথে তুলনা করলে বর্তমান বাজারদর তুঙ্গে আছে। বেড়েছে চাল, তেল, পেঁয়াজসহ সব ধরণের সবজির দাম।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বাজারে দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। শীতকালের সূলভ সবজি লাউ, শিম, কপি ও টমেটোর দামও কেজি প্রতি বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা।

বাজারে সবজির সরবরাহ কম বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, মৌসুমের শেষের দিকে সব ধরনের সবজির বাজারদর কিছুটা বেড়ে যায়।

তবে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের ভোক্তাদের দাবি, এভাবে ক্রমশ জিনিসের দাম বাড়তে থাকলে তাদের কষ্ট ক্রমশ বাড়তেই থাকবে।

রাজধানীর হাতিরপুল, নিউ মার্কেট ও কারওয়ানবাজার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, যে পেঁয়াজ এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহে তা ছিল ৩০ টাকা কেজিতে। দেশি রসুনের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপির দর ৫ টাকা কেজিতে বেড়ে হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

তবে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ডাল, চিনি ও মশলার বাজারের। প্রতি হালিতে লেবুর দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। গত সপ্তাহে বড় সাইজের এলাচি লেবুর হালিপ্রতি দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এখন সেটা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

বিভিন্ন কোম্পানীর সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। কোম্পানী ভেদে গত সপ্তাহে ১ লিটার বোতল বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, ২ লিটার ২৪০ থেকে ২৫০, ৫ লিটার বোতল বিক্রি হয়েছে ৬১৫ থেকে ৬২০ টাকায়।

এ সপ্তাহে এগুলোর দাম বেড়ে ১ লিটারের দাম হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। ২ লিটারের দাম ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা আর ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের দাম বেড়ে হয়েছে ৬৩০-৬৪০ টাকা।

চালের দামও বেড়েছে প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা করে। নাজিরশাইল চালের বর্তমান দাম ৬৫, মিনিকেটের দাম ৬৩ টাকা ও আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা কেজি প্রতি।

একইসাথে মুরগীর দামও বেড়েছে অনেক। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা কেজিতে। প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে কক মুরগী বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি প্রতি। ১ কেজি ওজনের দেশি মুরগি প্রতি হালির দাম এখন ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা। খাসীর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা কেজিতে।

গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের দামও বেড়েছে। কয়েকদিন ধরে বিভিন এলাকা থেকে মাছ কম আসায় এই মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশী বড় রুই মাছ প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে এখন ৪০০ টাকা। ছোট রুই মাছেও প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। ইলিশের (প্রতিটি এক কেজি) হালি ৪৪০০-৪৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর