জনসাধারণকে সচেতন করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা টিকা নেয়ার পরও করোনা আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু এতে আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। কারণ কেউ যদি টিকা নেয়ার পর আক্রান্ত হন তাহলে সেই সংক্রমন হবে খুবই মৃদু। তার মৃত্যুঝুঁকিও থাকবে কম। সুতরাং টিকা নেয়ার পর মৃত্যু ঝুঁকির পাশাপাশি সংক্রমিত হবার আশঙ্কাও কমে যাবে। অতএব টিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জানান, কেউ করোনা সংক্রমিত হবার পর টিকা নিলে সেটি কাজ নাও করতে পারে। কারণ, করোনাভাইরাসের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর সেটির ক্রান্তিকাল ন্যূনতম ১৫ দিন। এর আগেই একজন আক্রান্ত হতে পারেন। আবার টিকা গ্রহণের পর অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ১৪ থেকে ২১ দিন সময় লাগতে পারে। এর আগেও কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণের পর করোনায় আক্রান্তের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে। কারণ তখন টিকা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে ফেলবে। কিন্তু অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকলে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে ওই ব্যক্তি টিকা গ্রহণের পরও আক্রান্ত হতে পারেন। তবে এই সংখ্যা প্রতি ১০ হাজারে একজন হতে পারে বলে জানান তিনি।
করোনার জাতীয় টিকা বিতরণ সংক্রান্ত কোর কমিটির সদস্য ও আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর জানান, করোনা টিকাই একমাত্র উপাউ নয় যে করোনা থেকে বাঁচিয়ে রাখার। এটি একটি মাত্র উপায়। টিকা গ্রহণ করার পর কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে করোনা আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকবে। কারণ টিকা নিলে কেউ করোনায় আক্রান্ত হবেন না- এমন কোনো নিশ্চয়তা বিজ্ঞানীরা দেয়নি। টিকা গ্রহণের পরও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে বলে জানান তিনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, টিকা গ্রহণের পরও যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন বলে জানতে পেরেছি। কারণ টিকা গ্রহণের পর কেউ আক্রান্ত হলেও তার মারাত্মক সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি কম। সুতরাং টিকা গ্রহণের বিকল্প নেই। টিকা গ্রহণের পর অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ১৪ থেকে ২১ দিন সময় লাগে। এ জন্য করোনার ঝুঁকি থেকে বাঁচতে প্রত্যেকের প্রতি আহ্বান থাকবে, মাস্ক ব্যবহার করুন, আগের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
বার্তাবাজার/ভি.এস