সন্ধ্যা হলেই বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা। যেন ভূতড়ে পরিবেশ। সমানে চলছে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চরচারতলা গ্রামে হত্যা পরবর্তীতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে স্থানীয় লতিফ বাড়ির নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুসহ কয়েশ লোক।
গত ২২ জানুয়ারি মুন্সী বাড়ি ও লতিফ বাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এতে নিহত হয় জামাল মুন্সী। এরপর থেকেই চলছে এ অরাজক পরিস্থিতি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের লতিফ বাড়ির লোকজনের বাড়িঘরের সব জিনিসপত্র লুট পাট করে নিয়ে গেছে মুন্সী বাড়ির লাঠিয়াল বাহিনী। বিশেষ করে ধন মিয়ার ৭টি ঘরসহ লতিফ বাড়ির লোকজনের ঘরে ভাংচুর চালিয়ে সকল মূল্যবান জিনিসপত্র, টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। নৃশংসতার ছাপ এতটাই ভয়াবহ যেন মধ্যযুগের বর্বরতাকেও হার মানায়।
সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই বাড়িগুলোতে প্রবেশ করলে লতিফ বাড়ি কোন লোকজনকে পাওয়া যায় নি। তবে সংবাদকর্মী দেখে ক্ষেপে ওঠেন মুন্সী বাড়ির লোকজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লতিফ বাড়ির এক স্বজন বার্তা বাজারকে বলেন, ঝগড়ায় একজন নিহত হওয়ায় আমার বোনের ঘরের সব জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে মুন্সী বাড়ির লোকজন। ঘরের একটা জিনিসপত্রও রাখে নাই তারা। সবাই ভয়ে পড়নের কাপড় পড়েই খালি জান নিয়ে রাতে আঁধারে পালিয়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে দেখি এসব অবস্থা। আমার বোনের মত এমন ২৫টি পরিবারে প্রায় শতাধিক সদস্য আজ বাড়ি ছাড়া।
তিনি আক্ষেপ করে বার্তা বাজারকে আরো বলেন, অপরাধ যদি করে থাকে ১/২ জন করেছে। এর জন্য ২৫টি পরিবারের কি অপরাধ ছিল? তাদের বাড়িঘর এভাবে হামলা ভাংচুর কেন? এখন তাড়া অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আমরা এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্ত চাই। যারা খুনের ঘটনায় জড়িত আমরা তাদেরও বিচার দাবি করি। আর যেই সুযোগ সন্ধানী মহলটি নির্বিচারে লুট পাট চালিয়েছে আমরা তাদেরও আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ মাহমুদ বার্তা বাজারকে বলেন, ভাংচুর ও লুটপাটের বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারী মুন্সী বাড়ি ও লতিফ বাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মুন্সী বাড়ির একজন নিহত হয়।
মোঃ রাসেল আহমেদ/বার্তাবাজার/হৃ.আর