সংসারের খরচ, মেয়ের লেখাপড়া ও নিজের ওষুধের খরচ যোগাতে রাস্তায় রাস্তায় ও হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করেন জয়নব বেওয়া (৩৫)।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের করগ্রামের মৃত হেলালের স্ত্রী জয়নব অল্প বয়সেই স্বামী হারিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যদিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। অপর দিকে জায়গা-জমি ও অর্থ না থাকায় জরাজীর্ণ ঘরে মা-মেয়ের বসবাস।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জয়নব বেগমের অধরা আক্তার (১২) নামে একটি মেয়ে আছে। সে ৭ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।
জয়নবের বিয়ের দুই বছর পর স্ট্রোক করে স্বামী মারা যান। তারপর থেকেই সংসারে নেমে আসে দূর্ভোগ। অনেক কষ্টে প্রায় ১০ বছর আগে ছোট একটি দো-চালা ঘর বানিয়েছিলেন, জীর্ণশীর্ণ সেই ঘরেই কোনোরকমে থাকছেন মা-মেয়ে। সংসার চালাতে কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেন, কখনও রাস্তায় মাটি কাটেন। ছুটে চলার শেষ নেই। করোনাকালীন কোনো বাসাবাড়ীতে কাজ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন কি খাবেন, কীভাবে বাঁচবেন।
উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে অন্যের কিনে দেয়া ফ্লাক্স হাতে নিয়ে নেমে পড়েন বিভিন্ন বাজারে ও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে চা বিক্রি করতে। এভাবেই চলছে তার জীবন। নিজের আয়ের উৎস বলতে শুধু সারাদিন ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা চায়ের অর্থ। এই চা বিক্রির সামান্য আয়ে খুব কষ্টে চলছে জয়নবের সংসার ও সকল খরচ।
জয়নব বেগম বলেন, দিগপাইত উপশহরে ও কাঁচাবাজারে বেশি বিক্রি হয় চা। সারাদিন ঘুরে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা বিক্রি করি। তার মধ্যে চা পাতা, চিনি ও ওয়ানটাইম কাপের খরচ বাদ দিয়ে একশ’ টাকার মতো থাকে। নারী হয়ে রাস্তায় ও বাজারে চা বিক্রি করতে গিয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়। বিভিন্ন অসুবিধা থাকলেও নিজের সংসার একা চালিয়ে নিতে পারছেন, কারও কাছে হাত পাততে হয় না, এটাই তার কাছে বড় প্রাপ্তি বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, চায়ের দোকান থেকে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। আমার থাকার মতো কোন ঘর নেই। ছোট একটি দুচালা ঘর তুলে সেখানে কোনোরকমে মা মেয়ে থাকি। আমার হার্টের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট আছে। প্রতিদিন ওষুধ খেতে হয়। আমার মেয়েরও লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। সরকারী বা কোন সহায়তা পেলে চায়ের দোকানের পাশাপাশি অন্য ব্যবসা করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
দিগপাইত বাজারের পান ব্যবসায়ী আবুল কাশেম, কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফজলুল হকসহ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, জয়নব আমাদের বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে ফ্লাক্স হাতে নিয়ে চা বিক্রি করেন। মেয়েটি খুব অসহায় তাই আমরা যারা দোকানদার আছি তারা সবাই ওর কাছ থেকে চা খাই। যে যার মতো কিছু সহায়তা করার চেষ্টা করি।
এ ব্যাপারে মহাদান ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান জুয়েল বলেন, জয়নব মেয়েটি সত্যিই খুব অসহায় বিধবা নারী। তার বাড়ীতে আমি গিয়েছিলাম। তার জরাজীণ ঘর দেখে ঘরের প্রথম তালিকায় জয়নবের নাম দেয়া হয়েছিলো। যে কোন কারনে সে ঘর পায়নি। পরিবর্তিতে খ শ্রেণীর তালিকায় তার নাম দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, জয়নব বেওয়ার জমি থাকলে ঘরের জন্য আবেদন করতে পারেন। আমরা এসব তথ্য সংগ্রহ করছি। তিনি পাওয়ার উপযোগী হলে আমরা ঘরের ব্যবস্থা করব।
মোস্তাক আহমেদ মনির/বার্তাবাজার/পি