পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার চাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার হয় কিনা সেটা নিয়ে আমার শঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে বার্তা বাজারকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এর আগে আমরা দেখেছি আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা সাংবাদিক দম্পতি সাগর, রুনি হত্যাকাণ্ড। সেটির আজ দীর্ঘ নয় বছর পার হলো। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন ৮০ বারের মতো পিছিয়েছে। একটা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন যদি ৮০ বার পিছিয়ে যায় এবং এর বিচার করতে নয় বছর সময় লেগে যায় তবে সে হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে অব্যশই আমাদের মাঝে শঙ্কার তৈরি করে।
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডে স্পষ্টভাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জড়িত। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই কাদের মির্জা এবং ওবায়দুল কাদেরের সমর্থক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদল এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আর সেখান থেকেই সাংবাদিক মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনার অব্যশই সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া উচিত। কারা সেখানে গুলি ছুড়েছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
নুর বলেন, আমরা দেখি কিছু কিছু ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারে। সেটাও করেনি। এখন তার পরিবারকে মামলা না করতে চাপ দিতে পারে, কারণ ক্ষমতাসীন সাধারণ সম্পাদকের ভাই এখানে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। সুতরাং এখন এই ঘটনার বিচার আমাদের আরো বেশি শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে যে আসলে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে কিনা?
নূর আরো বলেন, আজ যদি সাংবাদিক মুজাক্কিরের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয় তবে পরবর্তীতে আরও লাশ পড়বে। তাই আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি চাই। সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের একটা আল্টিমেটাম দিয়েছি আমরা। সাত দিনের মধ্যে যদি হত্যাকারীদের প্রতি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ না নেয়া হয় তবে কঠোর কর্মসূচীর ডাক দিব। সেই কর্মসূচীতে যদি জনগণ আমাদের ডাকে সাড়া দেয় তবে আমরা সফল হব। এখানে জনগণের দায় রয়েছে। যে কোনো ইস্যুতে জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তবে সরকার বাধ্য হবে ন্যায় বিচার করতে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করতে প্রস্তুতি নেন আওয়ামী লীগের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।
এসময় সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি মিছিল বাজারের দলীয় কার্যালয়ে দিকে যায়। হঠাৎ করে ওই মিছিলে আবদুল কাদের মির্জার সমর্থক জামাল উদ্দিন লিটনসহ কিছু লোক বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ ঘটনায় বার্তা বাজারের নোয়াখালীর নিজস্ব প্রতিনিধি বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হন।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম