মিয়ানমারে বিক্ষোভে নিহত নারীর প্রতি শ্রদ্ধায় হাজারো মানুষ

মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিহত তরুণীর শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। রোববার রাজধানী নেপিডোতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

মিয়া থোয়ে থোয়ে খাইং মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আর কিছুদিন পরই তার বিশতম জন্মদিন ছিল। ওই বিক্ষোভে অন্তত তিন জন নিহত হন।

রোববার হাজার হাজার মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে নিহত ওই তরুণীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই তিন আঙ্গুলের সালাম ঠুকে সম্মান জানান, বিক্ষোভকারীরা অভ্যুত্থান বিরোধী আন্দোলনে এই প্রতীক ব্যবহার করে আসছে।

চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। প্রথমদিকে আগাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিক্ষোভকারীরা এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দেশটির নির্বাচিত নেতা অং সান সু চি এবং তার জাতীয় লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের অন্যান্য সদস্যদের যেন মুক্তি দেয়া হয়।

সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে যে গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে কারচুপি হওয়ার কারণে মিস সু চি’র দল এনএলডির ভূমিধস জয় পেয়েছে। যদিও নির্বাচনে কারচুপির কোন প্রমাণ সেনাবাহিনী দিতে পারেনি।

চলতি মাসের শুরুর দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে সুপার মার্কেটের কর্মী মিয়া থোয়ে থোয়ে খাইং আহত হন।

তাকে ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল, তবে শুক্রবার তিনি মারা যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী বিক্ষোভ সমাবেশের কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যারা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে অনেকেই ওই তরুণীর ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করছেন।

তার মরদেহ বহনকারী কফিনটি একটি কালো ও সোনালী রঙের গাড়িতে তুলে রাস্তায় চালিয়ে নেয়া হয়। ওই সময় গাড়িটির সাথে অন্তত কয়েকশো মোটরবাইক ছিল।

দেশটিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্যে গতকাল সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাটি ঘটেছে। এরপরও রোববার সারা দেশে অভ্যুত্থান বিরোধী আন্দোলনকারীরা আবারও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছুড়লে দু’জন প্রতিবাদকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এই মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দার জন্ম দেয়।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছিলেন “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ, ভয় দেখানো ও হয়রানি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

এছাড়া রোববার দেশটির বিশিষ্ট অভিনেতা লু মিনের স্ত্রী জানিয়েছেন, সামরিক নেতৃত্বের নিন্দা জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করার পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।-বিবিসি বাংলা

বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর