কুড়িগ্রামে পাড়ায় পাড়ায় ছোটদের অস্থায়ী শহীদ মিনার

মহান একুশের চেতনা শিশু কিশোরদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কুড়িগ্রামে পাড়ায় মহল্লায় অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণের প্রতিযোগিতা মূলক এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রচ্ছদ কুড়িগ্রাম।

এ আয়োজনটি সফল করতে প্রচ্ছদ কুড়িগ্রামের সংস্কৃতি কর্মীরা গত ১৫ দিন ধরে জেলা শহরের প্রতিটি পাড়া মহল্লা ও অলি গলিতে শিশু কিশোরদের সংগঠিত করে মহান একুশে ফেব্রুয়ারীকে সামনে রেখে দেশপ্রেম বোধ ও ভালোবাসা দিয়ে বাঁশ, গাছের ডাল, কলাগাছ, কাঠ, পুরোনো পেপার, মাটি, ইট, পাথর, বালিসহ হাতের কাছে যা পাওয়া যাবে তাই দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য উজ্জীবিত করে।

কুড়িগ্রামের বিশিষ্ট সাহিত্যিক কবি মিজান খন্দকার বলেন, মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য জাতির সূর্য সন্তানদের যে ত্যাগ তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রচ্ছদের এ উদ্যোগ যথার্থ। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও প্রচ্ছদ কুড়িগ্রামের সাবেক সভাপতি দুলাল বোস জানান, গত কিছুদিন থেকে দেশের মৌলবাদী শক্তির ভাস্কর্য অপসারণের যে হুমকি প্রদান করছে এ জন্যই শিশু-কিশোরদের একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জিবিত করতে হবে।

জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক সাতকুড়ি রায় নিলু বলেন, এধরনের আয়োজনের মধ্যদিয়ে শিশু-কিশোররা মাতৃভাষার মর্যাদায় নিজেদের নিয়োজিত করতে উদ্বুদ্ধ হবে।

প্রচ্ছদ কুড়িগ্রামের সংগঠক ইমতে আহসান শিলু জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের মতো কুড়িগ্রামেও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড থমকে গিয়েছিল। এছাড়াও এবারে শহিদ মিনারে ব্যাপক সমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং শিশু কিশোরদের উৎসাহিত করতে আমরা অভুতপূর্ব এ আয়োজনটি করেছি।

প্রচ্ছদ কুড়িগ্রামের সভাপতি জুলকারনাইন স্বপন জানান, একুশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা। বাংলা ও বাঙালির মহান একুশে উদ্যাপন উপলক্ষে এবং সবার মাঝে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কুড়িগ্রামে প্রথম বারের মতো শিশু কিশোরদের মাঝে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দিতে আমরা প্রচ্ছদ কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার পাড়ায় মহল্লায় অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণে উৎসাহিত করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আমাদের জানা মতে দেশে এ ধরণের আয়োজন এটাই প্রথম।

এ আয়োজনের মধ্যদিয়ে কোমলমতি শিশু কিশোরদের মাঝে একুশের চেতনায় বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধে শিশুরা বেড়ে উঠবে। এ আয়োজনটি সকলের সহযোগিতায় প্রতি বছর অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। সেই সাথে আমরা চাই এ উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পরবে এটাই প্রত্যাশা।

সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর