বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের মেসে ঢুকে হামলার ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রো পুলিশ।
শুক্রবার নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল রুমি।
এদিকে হামলার ঘটনার যে সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়েছিল সেই ফুটেজও ডিবি পরিচয়ে গায়েব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করার পরেই এই ফুটেজ গায়েব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সাউথ বেঙ্গল পরিবহনের হেলপার মো. ফিরোজ মুন্সী ও এমকে পরিবহনের সুপারভাইজার আবুল বাশার রনি। দুজনেই রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা। এদের দুজনকেই একটি বাসের মধ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে নগরীর রুপাতলী হাউজিং এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেসে হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলা দায়েরের পর অভিযান পরিচালনা করা হয় হামলাকারীদের খুঁজতে।
এরপর শুক্রবার গভীর রাতে রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের একটি বাস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তারা স্বীকার করেছে হামলার সাথে জড়িতদের সাথে থাকার কথা।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে পরিবহন শ্রমিকদের হামলার শিকার ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাহামুদ হাসান তমাল বলেন, রুপাতলী হাউজিং এলাকায় আমাদের হারুন অর রশিদ ছাত্রাবাসে হামলার পর সামনে থাকা মুসা প্যালেসের সিসি ক্যামেরায় সবকিছু রেকর্ড ছিল। কিন্তু সেই রেকর্ড শুক্রবার সন্ধ্যার পর ডিবি পরিচয়ে ফুটেজগুলো ডিলিট করে দেয়। সেই ফুটেজে সবকিছু রেকর্ড হয়েছে। ওই ফুটেজ দেখলেই জানা যেত কারা হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে রুপাতলী বিআরটিসি বাস কাউন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত ও ছাত্রী লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে। এরপর সেইদিন হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে কাউন্টারের সামনে সড়ক অবরোধ করলে পরিবহন শ্রমিক নেতারা তাদের অবরোধ তুলে নিতে বললে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এরপর রাতে রুপাতলী হাউজিং এলাকার মেসে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এতে ১৩ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়।
পরদিন বুধবার সকাল থেকে ঢাকা কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। ১০ ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা দায়েরের পর সেই মামলা প্রত্যাখান করে পুনরায় শুক্রবার সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিল করে শিক্ষার্থীরা।
বার্তাবাজার/পি