এবার ব্রকোলি চাষেও সফল সেই সবজি চাষি মাহাবুর

একজন সফল সবজি চাষি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রামের বাসিন্দা মাহাবুর মোল্যা। এবার সে পরীক্ষামূলক বিদেশি সবজি ব্রকোলি চাষ করেও লাভবান। এ সাফল্যের খুশিতে মাহাবুর এখন চেষ্টা করছেন বাণিজ্যিকভাবে ব্রকোলি উৎপাদনের। তাকে দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ সবজি আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, নিজের কোন জমি না থাকা সত্ত্বেও অন্যের ২ একর জমি ইজারা নিয়ে বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালংশাক, লালশাক, বেগুন, মুলা, শসা, লাউ, শিম, বরবটি, টমেটো, কাঁকরোল সহ নানা শীতকালীন সবজি চাষ করে থাকেন। প্রতি বছরই তিনি জমি ইজারা নিয়ে সবজি চাষাবাদ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। তবে এসবের পাশাপাশি এবছর তিনি যশোরের ইমিস্কো এগ্রো কোম্পানি থেকে বীজ সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রকোলির চাষ শুরু করেন।

সরেজমিনে জাটিগ্রাম বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে বারাশিয়া নদীর বেড়িবাঁধের পাশে মাহাবুর মোল্যার বিস্তীর্ন সবজি ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, ওই জমির ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রকোলির ১ হাজার চারা রোপণ করেন। রোপণের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ফলন ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে। ১০ শতক জমিতে সর্বমোট খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি ১০ হাজার টাকার ব্রকোলি বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন ওই ১০ শতক জমিতে ২০ হাজার টাকার অধিক ব্রকলি বিক্রি করতে পারবেন। এই ফলন সর্বনিম্ন ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে জমি থেকে ক্রয় করে বাজারে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। আগামীতে আরো বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে এ ফসল উৎপাদনের ইচ্ছা আছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপন প্রসাদ সাহা বার্তা বাজারকে জানান, ‘ব্রকোলি খুবই সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং উচ্চমূল্যের সবজি। এটি খুবই দ্রুত ফলন হয়। ফলে এই ফলন ঘরে তোলার পর ওই জমিতে আবারো অন্যান্য ফলন ফলানো যায়। এখানকার জমিতে ব্রকোলি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।’

মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর