“শেখ হাসিনা শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রী নন, একজন মমতাময়ী মা-ও”। এই মাকে পরিবার-পরিজন হারা কিংবা বাবা-মা হারা সন্তানের কষ্ট দারুণভাবে স্পর্শ করে। বাংলাদেশের সকল সমস্যা মাথায় নিয়েও তিনি যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের খবর রাখেন তার প্রমাণ আমরা তৃতীয় লিঙ্গরা।
ক’দিন আগে ও তো আমাদের ছিলোনা কিছুই! এখন আমরা জমি ও ঘরের মালিক”। এমন মা পেয়ে আমরা গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে এমন আবেগজড়ানো কথাগুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের স্বরস্বতী নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা তৃতীয় লিঙ্গের আশ্রয়ন প্রকল্পে পাকা ঘর পাওয়া আশা নামের হিজড়া।
এরা প্রকৃতির ইচ্ছাতেই হিজড়া হয়ে জন্ম নেয়। বাবা-মা ও পরিবার-পরিজনে নেই ঠাঁই। সমাজ ও এদের অপায়া ভেবে তাড়িয়ে দিলেও বুকে টেনে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। মুজিববর্ষে তাদের পাকা ঘর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তৃতীয় লিঙ্গেও আশ্রয়ন প্রকল্পে গেলে দেখা যায় ওখানে তৃতীয় লিঙ্গের ৩০ জনকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে জমির মালিকানাসহ পাকা ঘর, গবাদি পশু ও উপার্জনের জন্য সেলাই মেশিন ও দেয়া হয়েছে। সেই সাথে সেলাই মেশিন ও গবাদি পশু পালন প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।
বর্তমানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা আশ্রয়ন প্রকল্পে গানে গানে হাসি-আনন্দে সময় পার করছেন। কেউ ছাগল, হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করছেন। কেউ শাক-সবজি চাষ করছেন। কেউ আবার রান্না করছেন। এ যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তারা। পুনর্বাসিত হিজড়ারা তাদের জীবনের গল্পে বলেন পরিবার ও সমাজের মানুষের অবহেলা, তাড়িয়ে দেয়া ও নির্যাতনের কথা। বাঁচার ইচ্ছে হতো না। তবে এখন অনেক ভালো আছেন। নতুন জীবন পেয়েছেন। নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। এটি মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। তিনি তাদের মমতায় জড়িয়ে নিয়েছেন।
তৃতীয় লিঙ্গের আলো বার্তা বাজারকে জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের এ ঘরে আসার পরও আশপাশের মানুষ প্রাথমিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতো। আমাদের এখানে জায়গা দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে তারা আমাদের সাথে কথা বলে ও সুখ-দুঃখ শেয়ার করে। এভাবেই তারা সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। মানুষেরও তাদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পাল্টে ইতিবাচক হচ্ছে।
হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন মো. হেদায়েতুল আলম বার্তা বাজারকে বলেন, প্রথম দিকে ভেবেছিলাম, এই হিজড়ারা হয়তো সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করবে। আমাদের ক্ষতি হবে। এখন তো দেখি তারা গ্রামের মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। গরু ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন ও শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত। এই মানুষগুলো কাউকে বিরক্ত করে না। এখন গ্রামের মানুষ তাদের সঙ্গে মেশে, তারাও সবার সঙ্গে ভালো ভাবে কথা বলে।
আশ্রয়ন প্রকল্পে হিজড়াদের নেত্রী মায়া বার্তা বাজারকে জানান, সরকারি হিসেবে তাদের ৩০ জনকে জমি ও ঘর দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা থাকছেন ৫০ জন। তারা স্বাভাবিক জীবন পেয়ে খুশি।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ভুইয়া মুঠোফোনে বার্তা বাজারকে জানান, আমরা হাটিকুমরুলে ২০জন হিজড়াকে পুনর্বাসন করেছি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে জীবন মান উন্নত করার সব ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ বার্তা বাজারকে জানান, সরকারের উদ্যোগকে স্থায়ী রুপ দিতে জেলায় আরো যতো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আছে, তাদেরও এমন প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয় মেলায় এখন অনেকটাই স্বস্তিতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ।
এম এ মালেক/বার্তা বাজার/হৃ.আর