হাতের কাজ করা নকশী কাঁথার চাহিদা এখন দেশজুড়ে

যশোর জেলার ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজ করা নকশিকাঁথা ও কাপড়ের চাহিদা এখন রাজধানীর মার্কেটগুলোসহ সারাদেশে।

যশোরের ঐতিহ্যবাহী জিনিসের মধ্যে যশোরের নারীদের হাতের কাজের নকশিকাঁথা এবং কাপড় অন্যতম।  তবে বিগত কয়েকবছর আগে এই হাতের কাজ করা কাপড়ের কারিগর এত কম ছিলো যে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক বিলুপ্তির পথে পাড়ি জমিয়েছিলো।

সম্প্রতি করোনাকালে নারীদের সংসারের উপার্জনকারীরা কর্মহীন হয়ে পড়লে তারা এক এক জন নিজ নিজ জায়গা থেকে এই নকশিকাঁথা এবং হাতের কাজ করা কাপড়ের পিচ নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যাবসায় শুরু করে এক সফল উদ্যেক্তার পরিচয় দেয়। কাপড়ের পরে সুই সুতা দিয়ে তুলে ধরতে শুরু করে গ্রামবাংলার চিত্র, নানারকম নকশা। আর এই নকশীকাঁথা ও হাতের কাজের কাপড় তৈরি করে বিক্রি করে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে এবং অনলাইন ই-কমার্স সাইটে। ব্যাপক চাহিদা এবং লাভ দেখে একে অন্যকে দেখে অনুপ্রানিত হয়ে আজ যশোর জেলার ঘরে ঘরে এক একটা নারী হয়ে উঠেছে এই নকশীকাঁথা ও হাতের কাজের কারিগর।

ছবি-বার্তা বাজার

তবে একসময় নায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে নারীরা এই নকশীকাঁথা ও হাতের কাজ করা কাপড় তৈরি করা বন্ধ করে দিয়েছিলো। তবে এখন যশোরের অলিতে গলিতে ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছে এই নামকরা ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প।

যশোরের একজন নারী কারিগর, কহিনুর বেগম স্বামী একজন ভ্যানচালক।  কহিনুর বলেন- আমি আগে থেকেই হাতের কাজ জানতাম তবে দাম পেতাম না বলে তৈরি করতাম না।  করোনার সময় লকডাউনে আমার স্বামী বেকার হয়ে পড়লে আমি দিশেহারা হয়ে যাই।  একপর্যায়ে আমার ননদের পরামর্শে আমি আবার পুনরায় এই হাতের কাজের নকশিকাঁথা, থ্রি পিচ, ওয়ান পিচ, শাল ইত্যাদি তৈরি করা শুরু করি এবং যশোরের পাইকারি বাজার সহ এলাকার মধ্যে ব্যাপক চাহিদা পেয়ে বিক্রি করি।  এছাড়াও আমি এখান থেকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেই পাইকারি বাজারে।

আমার এখান থেকে কাপড় নিয়ে, অনেক যুবতীরা ঢাকা শহর সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইন ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে এই কাপড়ের বিজনেস করে। আমি এখন আল্লাহর রহমতে অনেক সচ্ছল।

ক্রেতারা বলেন- এই কাপড়ের গুনগতমান অনেক ভালো। বিশেষ করে যশোরের কাপড়ের মান সেরা। সুই সুতা কাপড় দিয়ে যদিও খরচ বেশি পড়ে যায় ফলে বিক্রেতাদের লাভ হয় সীমিত তবুও বাজারে ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা।

এই ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প কে ধরে রাখতে নারীদরে ভুমিকা অপরিসীম। নারীরা এই হস্তশিল্পের মাধ্যমে হতে পারে সচ্ছল এবং পরিচয় দিতে পারে এক সফল উদ্যোগক্তারা।

এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর