বসন্তের শুরুতেই ফুটতে শুরু করেছে শিমুল ফুল

শীতের পরেই ঋতুরাজ বসন্ত আগমনের সাথে সাথে প্রকৃতিতে লেগেছে তার ছোঁয়া। প্রতিটি গাছেই আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা। প্রকৃতিতে দক্ষিণা বাতাসে আম্রমুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে মুগ্ধ চারিদিক। কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতালে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দিচ্ছে দোলা।

গাছে গাছে জেগে উঠেছে সবুজ পাতা। মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে এসেছে ফাগুন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে ফুটেছে নয়নাভিরাম শিমুল ফুল।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাজড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় চোখে পড়ে শিমুল ফুল ফোটার দৃশ্য। ২৪ থেকে ২৬ ফুট লম্বা মাঝারি আকারের দুটি গাছ। খুব বেশি শাখা-প্রশাখা নেই। পাতা ঝরে পুরো গাছের শাখে এখন শিমুল ফুলের কুঁড়ি। সেই কুঁড়ি ফুটে গাঢ় লাল রঙের আভা নিয়ে বেরুচ্ছে অপরূপ শিমুল ফুল। দু একটি ফুল পুরোপুরি ফুটেছে। তবে গাছের তলায় ঝরে পড়ার সেই চিরচেনা দৃশ্যে চোখ জুড়াতে অপেক্ষা করতে হবে আরও সপ্তাহখানেক। আলাদা কোনো গন্ধ নেই, তবুও পথচারীদের বিমোহিত করে শিমুল ফুল। আর সূর্যের খরতাপে সেদিকে তাকালে চোখে ভেসে ওঠে অনন্য সৌন্দর্য্য।

আজ থেকে এক দশক আগেও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় গাছে গাছে শোভা বর্ধন করতো এই শিমূল ফুল। তবে কালের বিবর্তনে ঋতুরাজ বসন্তের এখন আর যেখানে সেখানে চোখে পড়ে না রক্তলাল শিমূল গাছ। মূল্যবান শিমূল গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

প্রাকৃতিক ভাবে গজিয়ে ওঠা এ সব শিমুলের তুলা দিয়ে লেপ, তোষক, বালিশ ইত্যাদি তৈরি করা যায়। যা ব্যবহার খুবই আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্য সম্মত। আবার এ সব শিমুল তুলা বাজারে বিক্রি করলে সংসারে কিছুটা হলেও অর্থের যোগান দিত। পাশাপাশি নিজেদের লেপ, তোষক,বালিশের চাহিদা মিটানো হত। এ ছাড়া শিমুল গাছ অনেক রোগ প্রতিরোধের ওষুধি গাছ হিসেবে গ্রাম অঞ্চলে ও হারবাল ব্যবসায়ীদের কাছে সুপরিচিত। শিমুলের মূল বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই গাছের কাঠের মূল্য বেশী না থাকায় মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গাছগুলিকে নির্মুল করতে মেতে ওঠে এর বদলে অন্য গাছ লাগাতে থাকে যদিও বা প্রাকৃতিক ভাবে গজিয়ে ওঠে মানুষ তা বিনষ্ট করে ফেলে।

এবিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ ওবায়েদ হোসেন বলেন, জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সরকারী ভাবে এসব বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ রোপণ করা না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই শিমুল গাছ সম্পন্ন ভাবে হারিয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না বাংলার মাটিতে শিমুল নামের কোন গাছ ছিল।

মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর